April 20, 2021, 7:16 am

এবার নিজের ঈদ শপিংয়ের টাকায় কর্মীহীনদের ঈদ সামগ্রী উপহার দিলেন ফাতেমা সাথী।

এবার নিজের ঈদ শপিং না করে সেই টাকা ব্যয় করে অসহায় কর্মহীনদের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার দিলেন, চাঁদপুর শহরের আলোচিত গৃহিনী ফাতেমা আক্তার সাথী।
যিনি বিত্ত নয় চিত্তের টানেই এত দিন ধরে নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে নিন্ম মধ্যবিত্ত অসহায় পরিবারের মাঝে উপহার স্বরূপ খাদ্য সামগ্রী দিয়ে এসেছেন। একই ভাবে গত কয়েকদিন ধরেই শহরের বিভিন্নস্থানে বসবাসরত নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে সেমাই, চিনি, দুধ, পলাউ চাল, তেল, মুরগী সহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী দিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।

জানাযায়, দেশের চলমান পরিস্থিতির প্রথম লগ্ন থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন দিনের বিভিন্ন সময়ে রাত হলেই নিজের সঞ্চিত টাকা ব্যায় করে এবং স্বামীর সহযোগিতা নিয়ে সেই টাকায় উপহার ক্রয় করে কর্মহীন অসহায় মানুষের দ্বারপ্রান্তে ছুটে চলছেন গৃহিনী ফাতেমা আক্তার সাথী। তবে কোন কিছু পাওয়ার আশা না করেই নিরবে নিভৃতে তিনি এই মানবসেবা করে চলেছেন। মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি এবং ভালোবাসাকে বুকে লালন করেই তিনি তার এই উপহার পৌছে দেয়া অব্যাহত রেখেছেন।
করোনা ভাইরাস মহামারীর বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রথম লগ্ন থেকেই চাঁদপুর শহরের বিভিন্নস্থানে রাতের আঁধারে উপহার নিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া বিভিন্ন অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে হাজির হচ্ছেন গৃহিনী ফাতেমা আক্তার সাথী। মানববতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা এ নারীর প্রথমে নাম পরিচয় জানা না গেলেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টের কারনে তার পরিচয় পাওয়া যায়।
তিনি চাঁদপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও উক্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সন্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাথী মোঃ ছিডু মিজির স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সাথী।
চলমান পরিস্থিতিতে নিজের বিবেকের তাড়নায় নিজের সঞ্চিত অর্থ ও স্বামীর সহযোগিতা নিয়ে গত দেড় দুই মাস যাবত চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে এবং রাতের আঁধারে নীরবে নিভৃতে একা একা ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি এ উপহার দিয়ে আসছেন।
এছাড়া তিনি চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি থাকা এবং চাঁদপুর মডেল থানায় কর্মরত করোনায় আক্রান্তদের মাঝে ফল উপহার দেন। আর সেই উপহার হিসেবে উপহার গ্রহনকারীরা পাচ্ছেন নগদ অর্থ,বা খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট।
তবে তার এই উপহার সামগ্রী যাদের কাছে পৌছে দিচ্ছেন তা একটু ব্যতিক্রম। আর তা হলো যারা নিন্ম মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। যারা অনেক অভাব অনটনে থাকা সত্বেও সামাজিক লজ্জাবোধে মুখ খুলে কারো কাছে কিছু চাইতে পারেননি তিনি সেসব মানুষদের বিবেচনা করেই গোপনে এই উপহার পৌছে দিয়ে আসছেন।
মানুষকে এই উপহার পৌছে দেয়ার তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই। আর তা হচ্ছে তার দেখায় যেনো সমাজের অন্যান্য বিত্তবানরা করোনা মহামারীতে তার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এ ভাবেই ইতিমধ্যে তিনি কয়েক শতাধিক পরিবারের হাতে এ উপহার তুলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!