October 23, 2021, 2:51 pm

News Headline :
অনলাইন গণমাধ্যম নিয়ে শেখ মহসীনের লেখা ছোট কবিতা অনলাইন জগতে ব্যাপক ভাইরাল সাম্প্রদায়িকতা রুখতে ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্য পরিষদ চাঁদপুর জেলার অবস্থান কর্মসূচি দেশে মন্দিরে হামলা ও হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে মাদারীপুরে অনশন কর্মসুচি। হাইমচরে পুকুরের পানিতে পড়ে ২ শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। হাইমচরে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান উপলক্ষে কমিউনিটি ফিশগার্ড টহল মূল্যায়ন ও আলোচনা সভা। হিন্দুপল্লী ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণঅনশন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে স্বপদে বহাল নেতাকর্মিদের আনন্দ মিছিল ও সংবর্ধনা প্রদান মেম্বার প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা। নওগাঁয় হিদু বদ্ধ খিষ্টান ঐক্য পরিষদর গণ- অনশন ও বিক্ষাভ মিছিল অনুষ্টিত রাউজানে গাউছিয়া কমিটি শেখপাড়া ইউনিট শাখার উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত

করোনাভাইরাস ও বাংলা নববর্ষ-১৪২৭

গতো ২৪ ঘন্টায়(১৩/০৪/২০২০)পর্যন্ত করোনাভাইরাস আপডেট বাংলাদেশের
মৃত্যু হয়েছে ৫ জন, আক্রান্ত ১৮২ জন,
মোট মৃত্যু ৩৯ জন,মোট আক্রান্ত হয়েছে
৮০৩ জন।

ধীরে ধীরে করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের সকল জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে আসুন আমরা এই কঠিন সময় ঘরে থাকি এবং অপরকে অনুরোধ করবো যেনো সকলেই ঘরে থাকেন।মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের অবশ্যই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করবেন।আমরা সর্তকতার সাথেই চলাচল করবো এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা মেনে চলবো।এছাড়াও সবসময় নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইবো সকল পাপের হাত থেকে রক্ষা পেতে।

দিন যায়,মাস যায়,নতুন বছর ঘুরে ফিরে সামনে এসে হাজির হয়ে যায়। আবারও ফিরে আসে বাঙালীর প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ।করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা করবো ঘরে বসে নিরাপদে থেকে ঠিক একই ভাবে ১৪২৭ বাংলা নববর্ষ পালন করবো ঘরে বসেই।সময়ের পথপরিক্রমায় যথানিয়মে এবারও আমাদের জীবনে পহেলা বৈশাখ এসে হাজির হয়েছে। কিন্তু বরাবরের বর্ণিল উৎসব এবার সম্পূর্ণ বিবর্ণ। এমন উৎসব বাঙালীর জীবনে আগে কখনই আসেনি।মহামারী করোনা ভাইরাস সবকিছু থমকে দিয়েছে।

এই করোনা ভাইরাসের শুরু হয় বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ।বাংলাদেশের সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) তিনজন নভেল করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে। এরপর থেকে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার এর মধ্যে যারা আগে থেকে স্থায়ী নানা রকম অসুখে অসুস্থ ছিলেন তাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেশকিছু রোগী মারাও গেছেন। প্রথম যেদিন বাংলাদেশে এই রোগ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে ঠিক সেই সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদযাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি চলছিল। কালবিলম্ব না করে কয়েক বছর আগে থেকে পরিকল্পনা করা জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্যাপক লোকসমাগম করে যে অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা ছিল তা বাদ দেয়া হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদিসহ অন্য বিশ্ব নেতাদের সেই অনুষ্ঠানে আসার পূর্ব পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়। অবশেষে গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে যতটুকু না করলেই নয় ততটুকুই আনুষ্ঠানিকতা করা হয়। সাংস্কৃতিক ও দেশী-বিদেশী অতিথিদের বক্তব্যমূলক অনুষ্ঠানের সব আয়োজন সরাসরির পরিবর্তে আগে থেকে ধারণ করে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশন ও অনলাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে গণমানুষের কাছে প্রচার করা হয়।

বিশ্বব্যাপী অবনতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতোমধ্যে যেন লোকসমাগম না হয়,মানুষকে কিভাবে ঘরে রাখা যায় এবং করোনা মোকাবেলায় অর্থনৈতিক পরিকল্পনাসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনের আগের দিনে জননেত্রী বেগম শেখ হাসিনা সরাসরি বিভিন্ন টিভি চ‍্যানেলে বাংলা নববর্ষ সম্পর্কে গনমানুষের কাছে ভাষণে সর্তকতার সাথে ঘরে থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে বলেছেন এবং একথাও বলেছেন বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে এই প্রথমবারের মতো পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হচ্ছে না।পাঠক একবার ভাবুন, কতটা ভয়াবহ দুর্যোগ হলে আগাম সতর্কতা হিসেবে এত পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে? দুনিয়ার খোঁজখবর রাখলে সহজেই তা অনুমান করা যায়। বাংলাদেশ বাঁচাতে হলে; দেশের মানুষ বাঁচাতে হলে আরও বেশ কিছুদিন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত পন্থা মেনে ঘরে থাকার নীতি অবলম্বন অবশ্যই আমাদের সকলকে মানতে হবে।

সারা পৃথিবীতে চলতে লাশের উৎসব এমনকি বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে বেরে চলতে করোনা রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু। বাংলাদেশের বর্তমানের এই কঠিন অবস্থায় কীভাবে বাঙালীর চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবে বলুন পাঠক ভাই বোন ও বন্ধুরা?একটু ভাবুন এটা কী মোটেও সম্ভব? উত্তরটি নিঃসন্দেহে সকলে না বলবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে করোনা ঝুঁকি এড়াতে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থায় ঘরে বসে প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎসব করার পরামর্শ দিয়েছেন আজকে ও সরাসরি জাতির উদ্দেশ্যে এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে গনমাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন টিভি চ‍্যানেলে সর্তকতার মেনে ঘরে থাকতে বিশেষ অনুরোধ করেছেন এবং পহেলা বৈশাখ ঘরে থেকেই পালন করতে বলেছেন যে কথা তিনি সরাসরি ভাষনে বলেছেন।

বাঙালী বরাবরই একে অপরের কাছে আসতে ভালবাসে। এমন জীবন ঘনিষ্ঠ আবেগ ও অনুভূতি ও সয়ং সম্পন্ন জাতি পৃথিবীতে আর একটিও খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ যেখানে বিচ্ছিন্ন হতে হতে প্রত্যেকে একা হয়ে গেছে। সেখানে বাঙালীকে সেই অর্থে আলাদা করার মোক্ষম অস্ত্র এখনও আবিষ্কার হয়নি। বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাঙালীর একটি প্রধান উৎসব। এটি ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে একে অপরের কাছে আসার অনন্য উৎসব।

আবহমানকাল থেকে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এক নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। কী গ্রাম,কী শহর সকালে ঘুম থেকে উঠে পান্তা ভাত,কাচামরিচ, ডালের বরা,ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়া পহেলা বৈশাখ উৎসবের একটি বিশেষ অংশ। বাড়িঘর পরিষ্কার করে সুন্দর করে সাজানো হয়।ধনী-গরিব প্রায় প্রতিটি বাড়িতে সামর্থ্য অনুযায়ী বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকে। গ্রামীণ বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে হালখাতা অনুষ্ঠান হতে দেখা যায়। দেশীয় শিল্পপণ্য,পিঠা-পুলির সম্ভার নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোথাও এমন আনন্দ আয়োজনগুলো দেখতে পাওয়া যাবেনা।শুধুমাত্র দেখবো মানুষের মৃত্যু মিছিল কান্নার আহাজারি।

জীবন সুন্দর, জীবন সুখের,একটি জীবনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে অগনিত কথা তবুও সবকিছু মিলিয়ে দেখলে জীবন সত্যিই সুখের ও মধুর কেননা জীবন দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা রব্বুল আলামীন তাই জীবনের মধ্যে যতই বিপদ ও রোগ বালাই দেখা দেয় সবকিছু মহান আল্লাহর হুকুমে হয় তাই আমরা মহামারী করোনা ভাইরাস ভয় না করে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা চাইবো।

নবীন লেখক ও সাংবাদিক

মোঃ ফিরোজ খান

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!