April 17, 2021, 8:10 pm

চাঁদপুরে রাতের আঁধারে উপহার নিয়ে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে গৃহিনী ফাতেমা সাথী

স্টাফ রির্পোটার।। করোনা ভাইরাস মহামারীর বর্তমান পরিস্থিতিতে চাঁদপুর শহরে বিভিন্নস্থানে রাতের আঁধারে উপহার নিয়ে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে হাজির হচ্ছেন গৃহিনী ফাতেমা আক্তার সাথী। মানববতার নিজেকে নিয়োজিত করা এ নারীর প্রথমে তার নাম পরিচয় জানা না গেলেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টের কারনে তার পরিচয় জানা গেছে।
দেশের চলমান এ পরিস্থিতিতে সহযোগিতার নামে “ত্রাণ বিতরণ” নামক ছবির সুট্যিং বা নাটক চলছে সারা দেশব্যাপী। যেখানে নিজে কে ফোকাস করতে ব্যস্ত। সেখানে নিজ উদ্যোগে রাতের আঁধারে চাঁদপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বসবাসরত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার ও শ্রমজীবী মানুষগুলোর দরজায় “ত্রাণ নয়” উপহার নিয়ে রাতের আঁধারে হাজির হচ্ছেন ফাতেমা আক্তার নামের এই গৃহিণী। যিনি ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরে নিরবে নিভূতে এমন একজন গৃহিনীর মানবসেবায় অনেকেই প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তার এই মানবসেবা মূলক কর্মকান্ডের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ফুটে ওঠে।

জানা যায়, নাম পরিচয় গোপন রেখেই নীরবে নিভৃতে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে এ কাজটি করে চলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিচয় জানা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কারণে।

তিনি ওই ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও উক্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সন্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাথী মোঃ ছিডু মিজির স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সাথী। চলমান পরিস্থিতিতে নিজের বিবেকের তাড়নায় নিজের সঞ্চিত অর্থ ও স্বামীর সহযোগিতা নিয়ে গত কদিন যাবত উক্ত ওয়াডে বিশেষ করে বতমানে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পতিত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে নীরবে নিভৃতে একা একা রাতের আঁধারে ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি এ উপহার দিয়ে আসছেন। নগদ অর্থ,বা খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এ ভাবেই ইতিমধ্যে কয়েক শতাধিক পরিবারের হাতে এ উপহার তুলে দিয়েছেন একজন গৃহিণীর এমন চমকপ্রদ মহৎকাজ বিরল দৃষ্টান্ত বলে উপকারভোগী পরিবারগুলো মন্তব্য করেন। সাথীর উপহার হাতে তারা বলেন, উপকার ভোগী পরিবারগুলোর সম্মান বা ইজ্জত নষ্ট না করে তিনি তার সময় মতো এসে আমাদের কাছে উপহার তুলে দেন। তাই আমরাও হাসি মুখে তাঁর এ উপহার গ্রহণ করি।

খবর নিয়ে জানা যায়, ফাতেমা আক্তার সাথী, নিজে সরাসরি এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন উপায়ে খোঁজ নিয়ে সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাতের আঁধারে ও একা একা নিজের হাতে নিয়ে ছুটে যান। নিদিষ্ট পরিবারের ঘরের দরজায় গিয়ে দরজা নক করে অত্যান্ত বিনয়ের সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে পরিবার গুলোর হাতে তা পৌছান। প্লীজ ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সামান্য এ উপহার এনেছি। আপনারা সাময়িক সমস্যায় আছেন তাই “ত্রাণ নয়” বিবেকের তাড়নায় এবং দায়বদ্ধতার থেকে চেষ্টা করেছি।

আমার অনুরোধ রইলো কারো কাছে বলবেন না, আমিও বলবো না। দোয়া করবেন। ব্যাস এটুকু বলে তিনি চলে আসেন। ইসলামের নিয়মকে অনুসরণ করে গোপনীয়তার মধ্যে এ মহৎ কাজটি করছেন।

উক্ত ওয়াডে ইতিমধ্যে বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেটেখাওয়া শ্রমজীবী দেড় শতাধিক পরিবারের মাঝে তাঁর বিতরণকৃত উপহারগুলো ৩টি আইটেমের। অর্থ্যাৎ ১টি হলো খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট আর ২টি খাম ১টি তে ১০০০ টাকা অন্যটিতে ৫০০ টাকা।

খাদ্য সামগ্রী নিয়ে করা প্যাকেটটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। এতে রয়েছে, ৫ কেজি চাল, সয়াবিন তৈল,মশারী ডাল, খেসারী ডাল, চিনি, পেঁয়াজ, ইফতারী বুট ও লবণ ১কেজি করে, রসুন ও আদা হাফ কেজি করে, দুধের প্যাকেট ২৫০ গ্রাম, চা পাতা ২০০ গ্রাম, বেশন ২৫০ গ্রাম, বনফুল সেমাই ১ পেকেট, সাবান রয়েছে ১ পিচ। এ উপহারগুলো কোন্ পরিবারকে কী দিবেন, খোঁজ নিয়ে তা নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েই দেন।

এ প্রশংসীয় কাজটির জন্য প্রশংসা, অনুপ্রেরণা, উৎসাহ বা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কেউ কেউ ফাতেমা আক্তার সাথীকে নিয়ে নীরবে নিভৃতে মানুষের দুঃসময়ে সত্যিকারের মানব সেবার প্রকৃত উদাহরণ বা বিরল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা ফেইসবুক পেইজে স্টাটাস দিয়েছেন।

স্টাটাসগুলোতে লেখার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো : মানবতার কল্যাণে সাথী ভাবি বা আপার এ গোপন মানব সেবাই হলো মানবতার প্রকৃত উদাহরণ।আপনার দেখানো এ মহৎ কাজ অনককে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে। দৃষ্টান্ত হয়ে থাকার মতো আপনার এ সেবা।

কয়েকজন জেলার ব্যবসা সমৃদ্ধ, কোটিপতি এবং শিল্পপতি, ভিআইপিদের বসবাস এবং জেলার শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়াডে গৃহিণী হয়ে ও একাজের কারণে বুজিয়ে দিয়েছেন মন থাকতে সব কিছু সম্ভব। শুধু তাই নয়, এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এতো নীরবে আপনার এ সেবা সত্যি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আপনার একাজ ও আপনাকে স্যালুট ফাতেমা সাথী, আপনি এ সমাজের মানবতার সাথী হয়ে থাকবেন।

এবিষয়ে ফাতেমা সাথীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি, বাহবা, সমাজ সেবক হিসেবে নিজেকে জাহির বা নেতা নেএী হওয়ার জন্য আমি এ কাজ করছি না। তাই প্রচারের দরকার নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিপদের সময়ে পাশে দাড়ানো মানে এ নয় যে আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য। যাদের দিচ্ছি এবং আরো দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে তারা প্রতিবেশী, পাড়া মহল্লাবাসী। সামনে পবিত্র রমজান, এ রমজানে নিজের আত্মীয় স্বজন একে অপরকে ইফতার সামগ্রী দিচ্ছি না? আমার খাদ্যের উপহার পেকেটে ইফতার সামগ্রী রয়েছে। তাই এটি উপহার, “” এান নয়”। ব্যক্তিগত ভাবে আমার এ চেষ্টা, যা অব্যাহত থাকবে। এটা অন্য কারো বা সরকারের অনুদান নয়, যে ত্রাণ বলবো

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!