May 17, 2021, 7:51 pm

News Headline :
পুরানবাজারে গলায় ফাঁস দিয়ে অটোবাইক চালকের আত্মহত্যা ফরিদগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত সাবেক চসিক মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে আঁচলস মম কুকিং এর কর্মকর্তাদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সাবেক চসিক মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে চট্টগ্রাম মহানগর সড়ক পরিবহণ শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় আত্রাইয়ে শ্রমিকলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মামলা দায়ের : মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার চাঁদপুরে পালিত হলো তিনদিন যাবত ঈদুল ফিতর খাগড়াছড়ির গুইমারায় ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগে একজনকে পুলিশে সোপর্দ সাবেক চসিক মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতৃবৃন্দের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় কোয়ারেন্টিনে থাকা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তুর্কিদের কঠোর অবস্থান

তিস্তা নদীতে বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে সলেডি স্প্যার বাঁধ

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত,
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
তিস্তা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সলেডি স্প্যার বাঁধ।

অসংখ্য বোমা মেশিন ধ্বংস ও ভ্রাম্যমান আদালতে জেলা জরিমানা করেও বালু দস্যুদের কাছ থেকে কিছুতেই রক্ষা হচ্ছে না তিস্তা নদী ও নদীর তীর বাঁধসহ সলেডি স্প্যার। যার কারনে বর্ষা শুরুর আগেই ভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহীন হচ্ছেন তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ। প্রভাবশালী বালু দস্যুদের কাছে অনেকটাই নিরুপায় স্থানীয় প্রশাসন।

জানা গেছে, তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙন ও বন্যায় ফসল রক্ষায় নদীর বাম তীরে বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে লালমনিরহাটে কয়েকশত কোটি টাকা ব্যায়ে তিনটি সলেডি স্প্যার বাঁধ নির্মান করে সরকার। যার ফলে ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষা পায় সদর ও আদিতমারী উপজেলার নদী তীরবর্তি মানুষ। তিস্তা নদী থেকে শুস্ক মৌসুমে ট্রাকে ও বর্ষায় বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করায় এসব বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে। যার ফলে প্রতি বছর সরকারী ভাবে লাখ লাখ টাকা ব্যায়ে বাঁধগুলো সংস্কার করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এরপরেও থেমে নেই বালু দস্যুদের তান্ডব। প্রতি মাসেই ভ্রাম্যমান আদালতে এসব মেশিন ধ্বংসসহ মালিকদের জেল জরিমানা তাদের আগ্রাসন থেকে তিস্তা নদীকে রক্ষা করতে পারছে না জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ফলে বাঁধসহ নদী ভাঙনের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্ষার আসার আগেই ভাঙন শুরু হয়েছে তিস্তার তীরে। গত সপ্তাহে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চন্ডিমারী গ্রামের আমিনুর ও মমিনুর রহমানসহ ৫/৬টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত বসত ভিটা ও ফসলি জমি। নিজেদের ফসল ও জীবন বাঁচাতে নিজেদের উদ্যোগেও বালুর বাঁধ নির্মান করেছেন গোবর্দ্ধন গ্রামের হাজারো মানুষ।

চন্ডিমারী গ্রামে নির্মিত সলেডি স্প্যার বাঁধ ১ এর প্রায় একশত গজ ভাটিতে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। যাকে উপজেলা প্রশাসন একাধিক বার সতর্ক করলেও বন্ধ হয়নি বোমা মেশিন। ফলে সলেডি স্প্যার বাঁধ আসন্ন বর্ষায় তিস্তায় বিলিন হওয়ার আশংকায় শ্বঙ্কিত স্থানীয়রা। বোমা মেশিন বন্ধে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন সুফল পায়নি বলে অভিযোগ তিস্তা পাড়ের মানুষের।

ভাঙনের মুখে পড়া চন্ডিমারী গ্রামের বেলাল, মোজাম্মেল, খতিজার, আজিজুল জানান, তিস্তার ভাঙনে ২০/২৫ বার করে বসতভিটা বিলিন হয়েছে। আবারো ভাঙনের মুখে পড়েছি। করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হওয়ায় অর্থ সংকটের মাঝে ভাঙন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থরা অন্যত্র বাড়ি করার জন্য বালু উত্তোলন করলে প্রশাসন এসে মেশিনে আগুন দিয়ে জেল জরিমানা করেন। অথচ প্রভাবশালীরা বীরদর্পে মাসের পর মাস স্প্যার বাঁধের নিচ থেকে বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। যা স্থানীয় প্রশাসনকে মোবাইলে জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যায় নি। আইন যেন শুধু গরিবের উপরই প্রয়োগ হয়- ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এমন চিত্র শুধু চন্ডিমারী সলেডি স্প্যার বাঁধে নয়। বাকী দুইটি স্প্যার বাঁধও বালু উত্তোলনের কারনে দিন তিন ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতি সময় প্রশাসন করোনা ভাইরাস সংক্রান রোধে ব্যস্থ্য থাকার সুযোগে বালু দস্যুরা লাঘামহীন ভাবে চালাচ্ছেন বোমা মেশিন। তিস্তা পাড়ে বাড়ছে ভাঙন আতংক। এ থেকে রক্ষা পেতে ঊর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে সলেডি স্প্যার বাঁধ ১ এর পাশে একটি মেশিন ধ্বংস করেছি। দুইটি মেশিনকে সতর্ক করা হয়েছে। সতর্ক পাওয়ার পরেও চালু হওয়া মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। উপজেলার কোথাও বোমা মেশিনে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বিষয়টি জানা নেই। নদী ও বাঁধ রক্ষায় কোন আপোষ নেই। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!