April 11, 2021, 3:56 pm

দেবীদ্বারে করোনা উপস্বর্গ নিয়ে ৩জনের মৃত্যু ! ১জনের নমুনা সংগ্রহ হলেও বাকী ২জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি; এমনকি স্বজনদেরও না

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে করোনা উপস্বর্গ নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোবার ভোর পর্যন্ত ৩জনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে। এরা হলেন, উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের মৃত; চান মিয়ার পুত্র লাল মিয়া(৮০), তিনি শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেন ওয়ার্ডে মারা যান। কুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত লাল মিয়ার করোনা নমুনা সংগ্রহ করে রাখেন। সকাল ১০টায় নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। অপর ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামে। ওই গ্রামের হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া(৩৫), রোববার ভোর ৪টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তিনি নবিয়াবাদ গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন ভূঁইয়া বাড়ির সাবেক কৃষি কর্মকর্তা ছায়েদ আলী ভূঁইয়ার ছোট ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তিনি বেশ কয়েক দিন ধরে করোনা উপস্বর্গ নিয়ে বাড়িতেই গোপনে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন, রোববার সকাল ১১টায় কঠোর নিরাপত্তা ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে তার নিজ বাড়িতেই দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে দেবীদ্বার পৌর এলাকার দেবীদ্বার গ্রামের (পাঠানবাড়ি সংলগ্ন) অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নয়ন মিয়া(৬০), তিনি করোনা উপস্বর্গ নিয়ে শনিবার দিবাগত রাতেই কুমিল্লা মুন হসপিটালে ইন্তেকাল করেন। ওখান থেকে দেবীদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামে তার শ^শুর মমতাজ উদ্দিনের বাড়িতে লাশ নিয়ে আসেন। শ^শুর বাড়ির লোকজন আপত্তি জানালে এখানে দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, নিহত নয়ন মিয়ার গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার ছিলমপুর গ্রামে হলেও তিনি দেবীদ্বার পৌর এলাকার দেবীদ্বার গ্রামে পাঠানবাড়ি সংলগ্নে বাড়ি করেছিলেন, অবশেষে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ নিজ গ্রাম মুরাদনগর উপজেলার ছিলমপুর নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
এব্যাপারে বিকেল পৌনে ৫টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আহমেদ কবির’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জাফরাবাদ গ্রামের লাল মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টা নিশ্চিত হয়ে তার গ্রামের বাড়ি জাফরাবাদ থেকে ৪ স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অপর দু’জন হেলাল উদ্দিন ও নয়ন মিয়া সম্পর্কে কেউ আমাদের লিখিত বা মৌখিকভাবে অবগত করেননি। তাই তাদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থাগ্রহন কিংবা নিহতদের নমুনা সংগহ বা তাদের সংস্পশের্^ থাকা স্বজসদের নমুনা সংগ্রহ কর হয়নি।
এর আগে দেবীদ্বারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজনই তার জীবদ্বশায় জেনেযেতে পেরেছেন তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বাকী ৫জনই মৃত্যুর পর তাদের মৃত্যু সনদের সাথে করোনা পজেটিভ সনাক্তের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। গত ১০এপ্রিল নবিয়াবাদ গ্রামের নবিয়াবাদ গ্রামের জীবন কৃষ্ণ সাহা(৫৫), ২১এপ্রিল বাগুর গ্রামের শাহ জালাল মেম্বার, ৩০এপ্রিল দেবীদ্বার শংকর হোমিও হল’র স্বত্বাধীকার প্রবীণ হোমিও চিকিৎসক ডাঃ সুকুমার চন্দ্র দে’(৭২) ৫মে নবীয়াবাদ গ্রামের আতিকুল ইসলাম(৬০) কুমেক হাসপাতালে এবং গত ৬মে এগার গ্রামের ফল ব্যবসায়ি লিল মিয়া(৬০), ৭মে দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের জামাল হাজারী (৩৮) করোনা উপস্বর্গ নিয়ে মারা গেলেও একমাত্র জামাল হাজারী তার জীবদ্বশায় জেনে গেছেন তিনি করোনা পজেটিভে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও আজকের মৃত্যুর তালিকায় ৩জনের একজন লাল মিয়ার নমুনা কুমেক হাসপাতাল সংগ্রহ করেছে আর দেবীদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে লাল মিয়ার ৪স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আব বাকী সেনা সদস্য নয়ন মিয়া এবং নবিয়াবাদের হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার নমুনা এমনকি তাদের সাথে সম্পর্কিত কারোরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। এর আগে ঢাকায় ভানী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান(৫০) ও মাশিকাড়া গ্রামের কাইয়ুম মূন্সী খোকন (ভ’মি অফিসে কর্মরত কাননগো)’র মৃত্যুর পর এদের পজেটিভ রিপোর্ট আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে ৩১৪ জনের নমুনা প্রেরন করা হয়, এদের মধ্যে ২০৮ জনের ৪০জন পজেটিভ এবং ১৬৮জনের নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। ৪০পজেটিভ রোগীর মধ্যে ৫জন মারা গেছেন। কুমেক হাসপাতালে করোনা পজেটিভ নিয়ে মৃত নবিয়াবাদ গ্রামের আতিকুল ইসলাম(৬০) সহ পজেটিভ ৪১জন এবং মৃতের সংখ্যা ৬জন। বাকী মৃত ৩জন জনের কোন তথ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো তালিকাভ’ক্ত হয়নি। নমুনা প্রেরনের ৩১৪ জনের মধ্যে ২০৮জনের পর নমুনা সংগ্রহে ধীর গতির কারনে গত ২দিন কোন নেগেটিভ বা পজেটিভের সংবাদ ছিলনা। গতকাল ৫৩জন এবং আজ ৫৩জন সহ ১০৬জনের নমুনা সংগ্রহ করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ঢাকা আইআরডিসিতে প্রেরন করা হয়েছে।
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার,
০১৮১৯৮৪৪১৮২,

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!