October 19, 2021, 6:52 pm

News Headline :
পিরোজপুরে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন উপলক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে অংশীজনের অংশ গ্রহন সভা অনুষ্ঠিত স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে শপথ নিলেন মতলব উত্তর উপজোলার জাহিদ সারওয়ার কাজল নকলায় শেখ রাসেলের জন্মদিনে কুইজ প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ কেক কেটে শেখ রাসেলের জন্মদিন পালন করেছে নকলা উপজেলা যুবলীগ হানারচরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শহিদ সরদারের নেতৃত্বে মা ইলিশ ধরার হিড়িক ফুলবাড়ীতে এক মাদ্রাসা ছাত্রের গলায় ফাস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার পাহাড়-সমতলের অপরূপ চুয়েটে এবার চালু হলো সৌখিন চা বাগান উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলার প্রতিবাদে রাউজানে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে মেম্বার প্রার্থী সোহাগ আকন্দ নওগাঁয় দুই মাসের শিশু সন্তান রেখে মায়ের আত্মহত্যা

দেবীদ্বার করোনা সন্দেহে তুলাগাঁও শাহজাহান চেয়ারম্যানের বাড়ি লক ডাউন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ

দেবীদ্বারে একই বাড়ির দু’জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের তুলাগাঁও গ্রামের অধিবাসী কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান সরকারের বাড়ি লক ডাউন করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত রোবার বিকেলে সংবাদ পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদা আক্তার এবং উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহাম্মেদ কবির’র নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে যেয়ে ওই বাড়িটি লক ডাউন করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামের কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান সরকার জানান, তার ভাগ্নী লুৎফুন্নাহার ভূঁইয়া ও ভাগ্নী জামাই বুড়িচং উপজেলার কোরপাই গ্রামের খায়রুল আলম ভূঁইয়া তাদের দুই কন্যা সন্তান নিয়ে ঢাকা শনিরআখড়া পাটেরবাগ শিয়া মসজিদের পাশে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। ওই বাসায় স্বমী-স্ত্রী দু’জনেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ অনুভব করে দু’মেয়েকে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তারা দু’জনই ঢাকা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তী হয়েছেন। তবে আইইডিসিআর’র নমুনা পরীক্ষায় খায়রুল আলম ভূঁইয়ার রিপোর্ট পজেটিভ ও লুৎফুন্নাহার’র রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। দু’নাতœী আমার বাড়িতে আসার পর আমার বাড়ির তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের হোম কোয়ারেইন্টাইনে সকল নিরাপত্তা দিয়ে রেখে দেয়া হয়েছে। যদিও ওরা সুস্থ্য আছেন তবুও ১৪দিন হোম কোয়ারেইন্টাইনে রেখেই নিশ্চিত হতে চাই। পরে স্থানীয় প্রশাসন শোনার পর রোবার বিকেলে এসে আমার বাড়ি লক ডাউন করে দিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহাম্মেদ কবির জানান, মেয়ে দু’টি ভালো আছেন, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সার্বক্ষনিক দেখাশোনার জন্য আমাদের একজন স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োজিত রেখেছি। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে অসংখ্য ফোন ও তথ্য আসছে। প্রাপ্ত সংবাদের সত্যতা যাইয়ে আমাদের নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি।
গত ২৩দিনে ১১৮জন প্রবাসী ও ২জন স্থানীয় সহ ১২০জন হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় থাকলেও এদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭৯জনের মধ্যে কোন ধরনের করোনা ভাইরাসের সিমটম পরিলক্ষিত না হওয়ায় তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে উন্মোক্ত করে দেয়া হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহাম্মেদ কবির।
তিনি আরো জানান, গত বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাস আছে সন্দেহে দুজনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ প্রেরন করেছি। ওই দুটি রিপোর্ট নেগেঠিভ এসেছে। আরো দু’টির রিপোর্ট এখনো আসেনি। করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের টেকনেশিয়ান অলিউল্লাহকে করোনার নমুনা সংগ্রহের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া আছে। সেই এখন থেকে করোনা সন্দেহ রোগিদের নমুনা সংগ্রহ করবে। করোনা রোগির নমুনা সংগ্রহের পর ঢাকায় পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারী কোন তহবিল না থাকায়ও আমদের সমস্যা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দু’জনের আলামত পাঠাতে দেবীদ্বার, মুরাদনগর এবং চান্দিনা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের যৌথ সহযোগীতায় ৩ উপজেলার নমুনা আইইডিসিআর-এ প্রেরন করতে হয়েছে। তবে এখন থেকে জেলা সদরে আসা এইচ.ডবিøউ’র গাড়িতে করে একদিন পর পর পাঠাতে পারব। আজও দেবীদ্বার বড় আলমপুর গ্রামের একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করেছি। এখন থেকে এক দিন পরপর এইচ. ডবিøউ’র গাড়িতে করে আইইডিসিআর-এ পাঠাদে হবে। এদের নমুনা পজেটিভ হলে রোগিদের ঢাকা আইইডিসিআর-এ পাঠিয়ে দেব। তবে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্তের কোন রোগী আমরা পাইনি।
এব্যপারে উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক ও দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে এ পর্যন্ত কোন রোগী আমাদের উপজেলায় পাওয়া যায়নি। এসময়ে দেবীদ্বার উপজেলার প্রায় এক হাজার প্রবাসী আসলেও এদের মধ্যে প্রায় ৭শত থেকে ৭শত ৫০জন প্রবাসী দেবীদ্বারে অবস্থান করছেন না। দেবীদ্বারের ঠিকানায় তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা ঢাকা ও কুমিল্লা শহরে অবস্থান করছেন। যারা এলাকায় এসেছেন, তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষনে আমাদের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড করোনা প্রতিরোধ কমিটি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী কিছুদিন আমাদের সম্পূর্ণ গৃহে অবস্থান করতে হবে। এসময়টা আমাদের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ণ। সকলের সহযোগীতা থাকলে আমরা করোনা মোকাবেলায় সফল হতে পারব। বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটির পাশাপাশি সেনা বাহিনী ও পুলিশের তৎপরাতা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!