June 22, 2021, 7:51 pm

News Headline :
চাঁদপুর চান্দ্রায় বিলে মজিবুর রহমান খান (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা জনসচেতনতামূলক অভিযানে ১৪টি মামলায় ৮ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড লাকসাম পুলিশের অভিযানে ৪ হাজার ৬’শ ৩০ টি ইয়াবাসহ ৩ জনকে আটক নোয়াখালীতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার ও অভিযোগ পত্র দাখিল। দোয়ারাবাজারে অগ্নিকান্ডে কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি শেষ হলো নিরব-অপুর ‘ছায়াবৃক্ষ’, এবার মুক্তি অপেক্ষায় দুর্গাপূজায় মোবাইলের গেইমস খেলা নিয়ে বিরোধ, মতলব উত্তরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুত্বর আহত ৫ এক শিং গরুর তাবিজ! মতলব উত্তরে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন মতলব উত্তরে মাদক কারবারি আটক

যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের প্রভাব সার্বিক ফলাফলে।

যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের প্রভাব পড়েছে সার্বিক ফলাফলে। অন্যান্য বোর্ডের ফলাফল তেমন হেরফের না হলেও যশোর বোর্ডে ভয়াবহ ফল বিপর্যয় হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

তাদের ভাষ্য, যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কারণেই সার্বিক ফল গত বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। কী কারণে এমনটা হলো সেটাও খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তারা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন  বলেন, ‘এবারের যশোর বোর্ডের ফলাফলে আমরা থান্ডার্ড হয়েছি। কীভাবে এটা সম্ভব হলো। এতো খারাপ ফলাফল তো হতে পারে না। যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কারণেই সার্বিকভাবে ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো কেন এমনটা হলো। আমাদের মন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।’

যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কারণ সম্পর্কে বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল আলম খান  বলেন, ‘এবছর ৩২ সেট প্রশ্নের মধ্য থেকে প্রশ্নপত্র বাছাই করা হয়েছে। যশোর বোর্ডের কাছে যে প্রশ্নসেট পড়েছে সেটি ছিল খুবই কঠিন। সেই প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে উচ্চ মাধ্যমিকে স্ট্যান্ডার্ড ছিল না সেই প্রশ্নপত্র। সেই প্রশ্নপত্র ছিল উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলের শিক্ষার্থীদের বোধগম্যের বাইরে। বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ের যে প্রশ্ন হয়েছে তা মোটেই শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে ছিল না।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে এমন কিছু শিক্ষক আছেন- যারা প্রশ্নপত্রে এমন পাণ্ডিত্য দেখান যা মোটেই কাম্য নয়।’

তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেন, ‘এটি খতিয়ে দেখলেই এর সঙ্গে যারা জড়িত তারা ধরা পড়ে যাবেন।

বোর্ডের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণত কোনো বোর্ডের প্রশ্নপত্র নির্ধারণ হয় ওই বোর্ডের শিক্ষকদের ধারা প্রণীত চার সেট প্রশ্নপত্র থেকে। তাহলে প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে যাওয়ার ‍সুযোগ থাকে না। কিন্তু এবার জাতীয়ভাবে ৩২ সেট প্রশ্নপত্র থেকে বাছাই করা হয়েছে। যার কারণে যশোর বোর্ডের শিক্ষকরা যে প্রশ্ন সেট তৈরি করেছে সেগুলো লটারিতে তারা পায়নি। তারা পেয়েছে অন্য প্রশ্নসেট।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র খুবই কঠিন হয়েছিল। পরীক্ষার দিন অনেক শিক্ষার্থীই বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরীক্ষার ফলাফলেও এর প্রতিফলন দেখা গেল।

এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। ১০টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ ফলাফল হয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের পাসের হার ৪৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর ফেল করেছেন ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এটি যশোর শিক্ষাবোর্ডে ফলাফল খারাপের দিক থেকে রেকর্ড।

এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের প্রভাব পড়েছে সার্বিক ফলাফলে। যশোর বোর্ডে পাসের চেয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি। আর ইংরেজিতেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এর প্রভাবে সার্বিক ফলাফলে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ ফল কমেছে।

একক বিষয় হিসেবে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছেন ইংরেজিতে। এ বিষয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ৫১ শতাংশ পাস করেছেন। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ইংরেজিতে ফেল করেছেন। যা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ইংরেজিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল করছে। তারপরও গ্রেস নম্বর দিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়নি। বলা যায় এই একটি বিষয়ের কারণেই পাসের হার কমে গেছে।

ফলাফল থেকে জানা যায়, এ বছর এইচএসসি ও সমমানের ১০টি বোর্ডে পরীক্ষার্থীদের গড় পাসের হার ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ হিসাবে গড় পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ১০ বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২ হাজার ৮৯৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭০ হাজার ৬০২ জন। এ হিসাবে জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৭ হাজার ৭০৮ জন।

ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ লাখ ৬১ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭২ জন। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, গতবার এই হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪ হাজার ৭২১ জন, গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৭ হাজার ৭৮৯ জন। গত ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১১ জুন এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!