September 26, 2021, 7:47 am

News Headline :
নরসিংদীতে ১৬ দিন পর করোনায় আরও ১ জনের মৃত্যু সোনারগাঁয়ে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির পাখি বিশ্ব নদী দিবস এসডিজি অর্জনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশাল আনন্দ মিছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আগমনে চাঁদপুরজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আলোচনা ঝিকরগাছায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে করণীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন——- প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্মে লিপ্তদের তালিকা করা হচ্ছে মতলব উত্তরে কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ হোসাইন শিপুর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র জন্মদিন ও এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষে মোহনপুর ইউনিয়ন আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথসভা

শখের বসে কবুতর পালন

 

মেহেদী হাসান উজ্জ্বল,ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
কবুতর পালন বেশ লাভজনক,সেইসাথে কবুতরকে শান্তির প্রতীকও বিবেচনা করা হয়। প্রায় সব মানুষই কবুতর ভালোবাসেন, তাই বাড়িতে কবুতর পালন করে অনেকেই, কেউ শখের বসে, কেউবা মাংসের চাহিদা পূরণে কবুতর লালন-পালন করেন। কবুতরের মাংস পুষ্টিকর ও বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহও রয়েছে অনেকের।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এমনি এক যুবক জীবন বর্মন,শখের বসে তার বাড়ীর আঙ্গীনায় তিনি কবুতর খামার করেছেন। পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের সুশান্ত বর্মনের ছেলে জীবন বর্মন। তিনি পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত কাঠ ব্যাবসায়ী। সারাািদন ব্যাবসায়ীক চাপ থাকলেও এর মধ্যেই শখের বসে কবুতর পালন করে এবং সেগুলোর যতœনেন ও খাবার খাওয়ান। তার শখের মধ্যে প্রিয় হলো পাখি পালন, আর তাইতো ছোট বেলা থেকেই তিনি পাখি পালন করে তার শখ পূরণ করে আসছেন। আর শখ পূরণেই ফুলবাড়ী শহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামে নিজ বাসার আঙ্গীনায় কাঠের বাক্সে গড়ে তুলেছেন দেশি বিদেশেী জাতের কবুতরের খামার।
প্রতিটি বাড়ীতেই কবুতর পলন করে হাজার হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন খামারী জীবন। তার এই উদ্যোগ দেখে উৎসাহিত হয়ে এলাকার শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকরা সল্প জায়গায় অল্প শ্রমে কবুতর পলনে ঝুঁকছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই বানিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর খামার গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ কবুতর পালনে পলনে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন। তারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জীবন বর্মনের বাড়ীতে খামারে প্রায় একশ’ জোড়া কবুতর রয়েছে। তার মধ্যে উচ্চ উৎপাদনশীল ঘিরিবাজ,ছোয়া চন্দন,লক্কা,গলাকিসি,কিং,সিরাজীসহ বিভিন্ন জাতের কবুতর রয়েছে। তাছাড়া কিছিু কিছু কবুতরের বাসায় (খোপে) বাচ্চা রয়েছে সেগুলোতে কবুতর ডিমে তা দিচ্ছে।
খামারি জীবন বর্মনের দেওয়া তথ্যমতে, ছোট কাল হতেই তিনি বিভিন্ন পাখি পালন করতেন। অন্যের কবুতর পালন দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালে প্রাণি বিভাগের পরামর্শে তার নিজের বাসায় কবুতর পালন শুরু করেন। প্রথমে দুই জোড়া বিদেশী ও তিন জোড়া দেশি কবুতর নিয়ে তার খামারের যাত্রা শুরু হয়। গত ৫ বছরে বাচ্চা উৎপাদন করে তা থেকে বর্তমানে এখন তার খামার পরিপক্ক। তার খামারে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে তিনি এই কবুতর গুলোকে এতোটাই ভালোবাসে যে সেগুলো কখোনো বিক্রয় করেননা। কবুতরের রোগ বালাই হলে তিনি স্থানীয় উপজেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেন। তার দেওয়া পরামর্শ মতে, কবুতরের ঘর আবাসস্থলের ২০০ থেকে ৩০০ ফুট দূরে দক্ষিণমুখী হতে হবে। মাটি থেকে এদের ঘরের উচ্চতা আট থেকে ১০ ফুট হবে। খোপ সাধারণত দুই থেকে তিনতলা বিশিষ্ট করা হয়। এমন খোপের আয়তন প্রতিজোড়া ছোট আকারের কবুতরের জন্য ৩০ সেন্টিমিটার ও বড় আকারের কবুতরের জন্য ৫০ সেন্টিমিটার হলে ভালো হয়, ফলে কবুতর গুলো ইচ্ছেমতো চলাচলের সুযোগ পায়। প্রতিটি কবুতর ৬ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে বিশদিন পরপর বছরে প্রায় একশত ৫০-থেকে একশত ৬০টি ডিম দিয়ে থাকে।
জীবন বর্মন জানান,জয়পুরহাট,দিনাজপুর,নবাবগঞ্জ,আফতাবগঞ্জ,বিরামপুরসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে তিনি বিভিন্ন জাতের কবুতর সংগ্রহ করেছেন। আর তার উৎপাদিত কবুতরের বাচ্চা গুলো ধিরে ধিরে খামারেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন,কবুতরের খাবার হিসেবে তিনি ধান,গম,সরিশা,ভুট্টা,চালের খুদি খাওয়ান। তার খামারে সর্বোচ্চ দামী কবুতরের বাচ্চা ১০ হাজার টাকা জোড়া এবং সর্বনিম্ম দামী কবুতর বাচ্চার জোড়া ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। কবুতরকে দামী কোন খাবার ও বাড়তি সময় দিতে হয় না তাই যে কোনো মানুষ কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন বলে মনে করেন এই খামারী।
উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব বলেন,বেকারদের পাশাপাশি যেকোনো সৌখিন মানুষ বানিজ্যিক ভাবে কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। প্রাণি সম্পদ বিভাগের পক্ষথেকে খামারিদের সবধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়। অপরিেদকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতাসহ পরামর্শ পেলে কবুতর পালন করে বেকারত্বকে দুরে ঠেলে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মনে করেন এলাকার সুধীজনরা।

মেহেদী হাসান উজ্জ্বল
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
মোবাইল ০১৭৭০০৭০১১১
তাং ০৭-০৬-২০২০ ইং

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!