April 11, 2021, 8:09 am

News Headline :
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্কুলভবনের নির্মাণকাজ নিম্নমানের হওয়ায় কাজ বন্ধ হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি শাহনওয়াজ’র সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল বিশুদ্ধ পানির সংকটে ১০দিনে হাসপাতালে অর্ধশতাধিক রোগী নোয়াখালীতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ আক্রান্ত ৮৪ জন সকলের মাঝে বাঁচার আকুতি শফিকুলের রাণীনগরে স্বামী পছন্দ না হওয়ায় নব-বধুর আত্মহত্যা! মতলব উত্তরে হাজী রব মোল্লা ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ জনসাধারণের মাঝে চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগের মাস্ক বিতরণ অব্যাহত মানুষ যদি সচেতন না হয় চিকিৎসক দিয়ে করোনা নির্মুল করা সম্ভব নয় – হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি

শ্রীনগর বাজারে ক্রেতাদের ভীড়, মানছেনা স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব

সুমন হোসেন শাওন, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর বাজারে বিভিন্ন দোকানপাট গুলোতে ক্রেতাদের ভীড়, মানছেনা স¦াস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত¦। মহামারী করোনা ভাইরাসে সরকারি আইন অমান্য করে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব। এর আগে লকডাউনে সরকারের নির্দেশে নিদিষ্ট দোকানপাট খোলা থাকলেও গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করে সিদ্ধান্ত নেয় মুন্সীগঞ্জর জেলার সকল উপজেলা ও পৌরসভার দোকানপাট বুধবার থেকে বন্ধ রাখার। কিন্তু শ্রীনগর বাজার কমিটি ও জনপ্রতিনিরা প্রথমে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলাপ করে দোকান বন্ধ রাখার দাবী জানায়। পরে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রীনগর বাজার খোল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে দেয়।

অথচ বৃহস্পতিবার সরজমিনে শ্রীনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভাইরাস সংক্রমণ রোধে এখানে কোনও প্রকার আইন মানা হচ্ছেনা। শ্রীনগর বাজার ও এর আশপাশের বিভিন্ন কাপড়, জুতা, কসমেটিকসহ সব ধরনের দোকান গুলোতে মানুষের ভীড়। যদিও দুপুরের দিকে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের নির্দেশ আসে দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য। তার পরেও দোকানের অর্ধেক সাটার নামিয়ে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করছে অসাধু দোকানীরা। অন্যদিকে শ্রীনগরে হুহু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এপর্যন্ত উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য মোট ৮ জন ও মৃত্যু ১ জন। করোনায় আক্রেন্তে সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। তার পরেও শ্রীনগর বাজারের চিত্র দেখে মনে হবে মানুষের মধ্যে কোনও রকম করোনার প্রভাব পরেনি!

আরো লক্ষ্য করা গেছে, শ্রীনগর বাজারের প্রতিটি গলিতে মানুষের ঢল। এর মধ্যে কাপড়ের দোকান, জুতার দোকানসহ অন্যান্য সব দোকানেই নারী ক্রেতাদের ভীড় জমেছে। মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি। বাজারের গলিগুলোতে মানুষের ধাক্কাধাক্কি। পা ফেলার মত অবস্থা নেই এখানে। করোনা মোকাবেলায় সরকারের জনসচেতনতায় এতসব প্রদক্ষেপ সবই মানুষের কল্যাণের জন্য। অথচ মানুষ তা মানছেনা। দেখা গেছে, কেনা কাটা করতে আসা নারীদের সংখ্যা বেশী। অনেক নারীদের সাথে ছোট ছোট শিশুও রয়েছে। এছাড়াও শ্রীনগর বাজার ও এর আশপাশের রাস্তা গুলোতেও যেখানে সেখানে অটোরিক্সার স্ট্যান্ডও দেখতে পাওয়ার পাশাপাশি মোটর সাইকেলে করে যাত্রী নেয়া আনার দৃশ্যও চোখে পড়েছে। এখানেও আটোগুলোতে ৫/৭ জন করে যাত্রী চাপাচাপি করে চলাচল করছে। বাজার সংলগ্ন ব্রীজেও যেখানে সেখানে হকাররা ভাসমান দোকান খোলে বসেছে। সব খানেই মানুষের উপচে পড়া ভীড়।

এবিষয়ে শ্রীনগর বাজার কমিটির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা করে সর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে মার্কেট ও দোকান খোলার জন্য বলেছিলাম। সে মোতাবেক এখানে করোনা মোকাবেলায় কোনও প্রকার সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছেনা। তাই আমরা বাজার কমিটির পক্ষ থেকে ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান ব্যতিত মার্কেটসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে একমত পোষন করছি। শ্রীনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোখলেছুর রহমান জানান, মার্কেট খোলার ঘোষনার পর থেকেই শ্রীনগর বাজারে মানুষের ভীড় বেড়েছে। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে জনসমাগম এড়াতে শ্রীনগর বাজার থেকে কাঁচা বাজার অন্যত্র সরিয়ে আনতে পারলেও সবাই আসেনি। যদি বাজারের ভিতর থেকে কাঁচা বাজার গুলো সম্পূণ রূপে সড়ানো যেত, তাহলে ভীড় কিছুটা কমতো। তবে সব দোকানী তা মানছেনা। তাছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়নি। তারা দেশের এই পরিস্থিতিতে কোনও রকম আইন মানছেননা। সেই ক্ষেত্রে করোনা মোকাবেলায় মার্কেট বন্ধ থাকাই উত্তম। এই সময় তিনি, শ্রীনগর বাজারকে করোনা ভাইরাসের আখরাখানা হিসেবে আক্ষা দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার জানান, যেহুতু শ্রীনগর বাজার কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খোলা রাখতে ব্যর্থ সেক্ষেত্রে ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া কাপড়, জুতা, কমমেটিকসহ অন্যান্য পণ্যর দোকান বন্ধ রাখার ষোঘনা দেওয়া হয়েছে। এখানে যদি কেউ সরকারি আইন অমান্য করা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বাজার থেকে জনসমাগম এড়ানোর লক্ষ্য সার্বক্ষনিক নজর রাখা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!