October 19, 2021, 6:08 pm

News Headline :
পিরোজপুরে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন উপলক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে অংশীজনের অংশ গ্রহন সভা অনুষ্ঠিত স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে শপথ নিলেন মতলব উত্তর উপজোলার জাহিদ সারওয়ার কাজল নকলায় শেখ রাসেলের জন্মদিনে কুইজ প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ কেক কেটে শেখ রাসেলের জন্মদিন পালন করেছে নকলা উপজেলা যুবলীগ হানারচরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শহিদ সরদারের নেতৃত্বে মা ইলিশ ধরার হিড়িক ফুলবাড়ীতে এক মাদ্রাসা ছাত্রের গলায় ফাস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার পাহাড়-সমতলের অপরূপ চুয়েটে এবার চালু হলো সৌখিন চা বাগান উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলার প্রতিবাদে রাউজানে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে মেম্বার প্রার্থী সোহাগ আকন্দ নওগাঁয় দুই মাসের শিশু সন্তান রেখে মায়ের আত্মহত্যা

সম্পদ আল্লাহর পথে দান করা নিয়ে সূরা আল বাক্বারাহ এর আলোকে কিছু কথা

 

যারা তাদের সম্পদ দিন-রাত প্রকাশ্যে, গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে — তাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের কাছে রাখা আছে। তাদের কোনো ভয় নেই, তারা কোনো আফসোস করবে না। [আল-বাক্বারাহ ২৭৪]

এই আয়াতে আল্লাহ تعالى সেই সব মানুষদের কথা বলেছেন, যারা সবসময় দান করেন। দিনের বেলা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো অভাবীকে দেখলে দান করেন। কোনো সংগঠন এসে সাহায্য চাইলে দান করেন। কেউ তাকে অভাবী মানুষের দুর্দশার কথা শোনালে তিনি দান করার জন্য ছুটে যান। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারিতে দুস্থ মানুষদের দান করার সুযোগ পেলে তিনি কখনও ছেড়ে দেন না। আত্মীয়রা চাওয়ার আগেই তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তাদেরকে সাহায্য করেন। মসজিদে কারও চেহারা দেখে সে কষ্টে আছে মনে হলে, তিনি তার কষ্ট কমাতে এগিয়ে যান। এই ধরনের নিবেদিত প্রাণ মানুষরা দিনে, রাতে, প্রকাশ্যে, গোপনে যখন যেভাবে পারেন দান করতে থাকেন। এদের সম্পর্কে আল্লাহ تعالى বলছেন যে, এদের পুরস্কার বিশেষভাবে তাঁর تعالى কাছেই জমা আছে। এরা কিয়ামতের দিন যখন তাঁর تعالى কাছে আসবেন, সেদিন তাদের কোনো ভয়, কোনো আফসোস বা দুঃখ থাকবে না। আল্লাহ تعالى এদেরকে বিরাট পুরস্কার দেবেন। এমন পুরস্কার, যা তিনি تعالى নিজের কাছে রেখেছেন। অন্য কাউকে তিনি تعالى এত বড় পুরস্কার ধরে রাখার জন্য যোগ্য মনে করেননি।
প্রশ্ন হচ্ছে: কেন দানশীলদের জন্য এত বড় পুরস্কার? এই ধরনের পুরস্কার কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি, নিয়মিত রোজাদারদের জন্য থাকা উচিত ছিল না?
ঘরে বসে নামাজ, রোজা করা সোজা কাজ। কিন্তু নিজের কষ্টের সম্পদ কাউকে দান করা কঠিন ব্যাপার। দান করতে গেলেই মাথার মধ্যে হাজারো চিন্তা শুরু হয়ে যায়, “যদি দান করি তাহলে বাচ্চার পড়ার খরচের জন্য টাকা থাকবে? আগামী কয়েকমাস বাড়ি ভাড়া দিতে পারবো? পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার টাকা কীভাবে দেব? গাড়ি-বাড়ি কেনার জন্য টাকা জমাবো কীভাবে?” — যখনি আমরা কোনো দান করার পরিস্থিতিতে পড়ি, তখনি আমরা একেক জন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হয়ে যাই। মুহূর্তের মধ্যে আমাদের যাবতীয় সম্পদ, বিনিয়োগ এবং ঝুঁকির হিসাব মাথার মধ্যে গিজগিজ করতে থাকে। দান করতে গেলেই বোঝা যায় কার আল্লাহর تعالى প্রতি বিশ্বাস কতটা দৃঢ়।
একারণেই যারা নিজের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধে জয়ী হয়ে দিন-রাত দান করতে পারেন, তাদের বিশ্বাস অত্যন্ত মজবুত হয়ে যায় এবং তাদের অন্তর খুবই শক্তিশালী হয়ে যায়। তখন তাদের ভেতরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। যেমন, আল্লাহর تعالى প্রতি আস্থা অনেক বেড়ে যায়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা করা কমে যায়, অমূলক ভয়-ভীতিকে তারা জয় করেন, নেতিবাচক চিন্তা কমে যায়, অন্যের প্রতি আত্মত্যাগ করার মানসিকতা তৈরি হয়, সহমর্মিতা বোধ বাড়ে। একারণেই যারা নিয়মিত দান করেন, তাদের অন্তর মজবুত হয়, অল্পতেই মন ভেঙ্গে পড়ে না। দান করাটা হচ্ছে কঠিন পরিস্থিতিতেও অন্তরকে আল্লাহর تعالى আদেশ মানানোর জন্য এক ধরনের ট্রেনিং। দুর্ভিক্ষ, মহামারি বা কষ্টের সময় মানুষকে দান করা, যখন কিনা নিজেরই অভাব চলছে, আত্মীয়দেরকে দান করা যাদের সাথে সম্পর্ক ভালো না—এগুলো বেশ কঠিন কাজ। এগুলো আমাদেরকে সহজ, আরামের ইবাদতের গণ্ডি থেকে বের করে, কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর تعالى প্রতি আস্থা রাখা, তাঁর تعالى আদেশ মেনে চলার ট্রেনিং দেয়।[৭]

যারা তাদের সম্পদ দিন-রাত প্রকাশ্যে, গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে
মানুষের ভিতরে স্বার্থপরতা এবং কৃপণতা স্বভাবজাত। মানুষ সবসময়ই চেষ্টা করে নিজের লাভের জন্য কাজ করার। নিজের সম্পদকে যতটুকু সম্ভব আগলে রাখার, যেন সে নিজের সম্পদ নিজে উপভোগ করতে পারে। কিন্তু এই আয়াতে আল্লাহ تعالى এমন মানুষদের কথা বলছেন, যারা তাদের স্বার্থপরতা এবং কৃপণতাকে জয় করতে পেরেছে। এরা দিন-রাত দান করে। যখন, যেভাবে পারে আল্লাহর تعالى পথে তাদের সম্পদ খরচ করে। যারা মানুষের এই দুটি দুর্বলতাকে জয় করতে পারেন, তারা আল্লাহর تعالى বিশেষ অতিথি হয়ে যান।
শুধু তাই না, এরা অভাবের সময়ও দান করেন। আল্লাহ تعالى এদের সম্পর্কে বলেছেন—

তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করো এবং এমন এক বাগান পাওয়ার জন্য ছুটে যাও, যেই বাগান সবগুলো আকাশ এবং পৃথিবীর আকৃতির মতো বিশাল, যা তৈরী করা হয়েছে আল্লাহর প্রতি সবসময় সাবধানীদের জন্য। যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে, আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। আর যারা ভালো কাজ করে, আল্লাহ অবশ্যই তাদের ভালবাসেন। [আলে ইমরান- ১৩৩-১৩৪]

তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে অাপনি যে দান করিতেছেন, এ টাকাগুলো অাপনার কষ্টের এবং হালাল রোজকার এর টাকা কিনা?

ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে হালাল রোজকার,

যখনই কোন বড় কোন সংকট দেখাদেয় বা বড় কোন প্রতিষ্ঠান করার উদ্দেগ গ্রহন করা হয়, তখনই সমাজের বিত্তবান লোকজন প্রকাশ্য দান শুরু করলে অন্যান লোকেরা ও এগিয়ে অাসে, এ জন্য বলছে দান প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য দান করা যাবে।

ক্ষুদ্র চেষ্টা

রেদওয়ান খান বোরহান
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
ভয়েস বাংলা ফাউন্ডেশন

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!