June 24, 2021, 6:00 am

সীমানা প্রাচীর নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত,
লালমনিরহাট:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী গ্রামে সীমানা প্রাচীর নির্মানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

ওই এলাকার নারী ইউ-পি সদস্য মাজেদা বেগমের দাবী, বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ স্থানীয় সফিয়ার রহমানের পক্ষে এসে কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বাড়ি ঘর ভাংচুরসহ তাদের উপর হামলা করেছে।

আর সফিয়ার রহমানের দাবী, মাজেদা বেগমের লোকজন তাদেরকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে গেলে মাজেদা বেগমের লোকজনের হামলায় পুলিশ ও তার স্ত্রী ছেলে আহত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মাজেদা বেগমের সাথে একই এলাকার সফিয়ার রহমানের বেশ কিছু দিন ধরে জমির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগও করেন সফিয়ার রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই অভিযোগ তদন্তে যান হাতীবান্ধা থানার এস আই মাহফুজার রহমান। পুলিশ চলে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই সংঘর্ষে ইউ-পি সদস্য মাজেদা বেগম ও পুলিশসহ উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। পরে সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার ঘটনাস্থলে গেলে তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সফিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ চলে যাওয়ার পর পরেই তাদেরকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন ইউ-পি সদস্য মাজেদা বেগমের লোকজন। পরে তারা ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা গ্রহন করেন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে গেলে মাজেদা বেগমের লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও আমার স্ত্রী-ছেলে আহত হয়েছে বলেন সফিয়ার রহমান। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগও করেছি।
তবে সফিয়ার রহমানের দাবীকে মিথ্যা উল্লেখ করে ইউ-পি সদস্য মাজেদা বেগমের বলেন, সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্বর বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংশার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু পুলিশ হঠাৎ করে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে বাড়ি ঘর ভাংচুরসহ আমাদেরকে মারধর করে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। আমরা এ ঘটনায় বিচার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর রোববার অভিযোগও করেছি। আমরা পুলিশী হামলার সু-বিচার চাই।

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার বলেন, ওই এলাকায় মাজেদা বেগমের সঙ্গে সফিয়ার রহমানের জমির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সফিয়ার রহমানের অভিযোগ মাজেদা বেগমের লোকজন তাদের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সফিয়ার রহমানের লোকজন ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে যায়। পুলিশ হামলা বা কাউকে মারধর করেনি। উল্টো পুলিশের উপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!