December 8, 2021, 9:54 pm

News Headline :
আবারও নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চান শ্যামল সিদ্দিক ভারতের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াতকে বাঁচানো গেল না ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা ৪৩তম কচুয়ার আশ্রাফপুর ইউপি নির্বাচনে আ. লীগের প্রার্থী শামীমের মনোনয়ন পত্র জমা চাঁদপুর জেলার সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৫টি ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় হাতিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১ রাউজানে এক ব্যক্তির পাকা ঘর ও জমি ক্রোকবদ্ধ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ম্যজিস্টেট ফুলবাড়ীতে ব্যাংক এশিয়া’র ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত। মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের শিখন কেন্দ্রের উদ্বোধন। উত্তর আলগী ইউনিয়ন নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুর রহমান কে ফুল দিয়ে বরণ করেন কর্মী সমর্থকরা

৬ নং ওয়াডে “এান নয় ‘” ব্যতিক্রমী উপহার'” পরিচয় বিহীন এক গৃহিণীর রাতের আঁধারে এ মহৎকাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপাড়

চলমান পরিস্থিতিতে সহযোগিতার নামে ” এান বিতরণ “” নামক ছবির সুট্যিং বা নাটক চলছে সারা দেশব্যাপী। যেখানে নিজে কে ফোকাসে সবাই, তখন চাঁদপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়াডে বসবাসরত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার ও শ্রমজীবী মানুষ গুলোর দরজায় “এান নয় ” উপহার নিয়ে রাতের আঁধারে হাজির হচ্ছেন এক গৃহিণী। যিনি ঐ ওয়াডের বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এ বিষয়টি ফুটে ওঠে।

জানাযায়, নাম পরিচয় গোপন রেখে নীরবে নিভৃতে তিনি একাজটি চলমান রেখেছে। কিন্তু শেষ পযন্ত তাঁর পরিচয় জানা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারনে। তিনি উক্ত ওয়াড যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও উক্ত ওয়াড আওয়ামীলীগের সন্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাথী মোঃ ছিডু মিজির স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সাথী। চলমান পরিস্থিতিতে নিজের বিবেকের তাড়নায় নিজের সঋিত অথ ও স্বামীর সহযোগিতা নিয়ে গত কদিন যাবত উক্ত ওয়াডে বিশেষ করে বতমানে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পতিত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার কে নীরবে নিভৃতে একা একা রাতের আঁধারে ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি এ উপহার দিয়ে আসছেন। নগদ অর্থ,বা খাদ্য সামগ্রীর পেকেট তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।এ ভাবেই ইতিমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের হাতে এ উপহার তুলে দিয়েছেন।
একজন গৃহিণীর এমন চমকপ্রদ মহৎকাজ বিরল দৃষ্টান্ত বলে উপকার ভোগী পরিবার গুলো মন্তব্য করেন। তারা আরো বলেন, উপকার ভোগী পরিবার গুলোর সন্মান বা ইজ্জত নষ্ট যেনো না হয় এবং তারা হাসি মুখে তাঁর এ উপহার যেনো গ্রহণ করেন, এমন গোপনীয়তার মধ্যে পৌছাচ্ছেন,যা সত্যি বিরল ।

তিনি নিজে সরাসরি এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন উপায়ে খোঁজ নিয়ে সন্দ্ব্যার থেকে শুরু করে গভীর রাতের আঁধারে ও একা একা নিজের হাতে নিয়ে ছুটে যান। নিদিষ্ট পরিবারের ঘরের দরজায় গিয়ে দরজা নক করে
অত্যান্ত বিনয়ের সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে পরিবার গুলোর হাতে তা পৌছান। প্লীজ ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সামান্য এ উপহার এনেছি। আপনারা সাময়িক সমস্যায় আছেন তাই “এান নয় ” বিবেকের তাড়নায় এবং দায়বদ্ধতার থেকে চেষ্টা করেছি। আমার অনুরোধ রইলো কারো কাছে বলবেন না, আমিও বলবো না।দোয়া করবেন। ব্যাস এ টুকু বলে তিনি চলে আসেন। ইসলামের নিয়ম কে ফলো করে গোপনীয়তার মধ্যে এ মহৎ কাজটি করছেন।

উক্ত ওয়াডে ইতিমধ্যে বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী দেড় শতাধিক পরিবারের মাঝে তাঁর বিতরণকৃত উপহার গুলো ৩ টি আইটেমের। অথ্যাৎ ১ টি হলো খাদ্য সামগ্রীর পেকেট আর ২টি খাম ১টি তে ১০০০ টাকা অন্যটিতে ৫০০ টাকা। খাদ্য সামগ্রী নিয়ে করা পেকেটটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। এতে রয়েছে , ৫ কেজি চাল, সয়াবিন তৈল,মশারী ডাল,খেসারী ডাল, চিনি, পেঁয়াজ,ইফতারী ভুট ও লবন ১কেজি করে , রসুন ও আদা হাফ কেজি করে , দুধের প্যাকেট ২৫০ গ্রাম, চা পাতা ২০০ গ্রাম।,বেশন ২৫০ গ্রাম, বনফুল সেমাই ১ পেকেট, সাবান রয়েছে ১ পিচ। এ উপহার গুলো কোন পরিবার কে কী দিবেন, খোঁজ নিয়ে তা নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েই দেন।

এ প্রশংসীয় কাজটির জন্য প্রশংসা, অনুপ্রেরণা, উৎসাহ বা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কেউ কেউ ফাতেমা আক্তার সাথী কে নিয়ে নীরবে নিভৃতে মানুষের দুঃসময়ে সত্যিকারের মানব সেবার প্রকৃত উদাহরণ বা বিরল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা ফেইসবুক পেইজে স্টাটাস দিয়েছেন।
স্টাটাস গুলোতে লেখার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো – মানবতার কল্যাণে সাথী ভাবি বা আপার এ গোপন মানব সেবাই হলো মানবতার প্রকৃত উদাহরণ।আপনার দেখানো এ মহৎ কাজ অনককে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে। দৃষ্টান্ত হয়ে থাকার মতো আপনার এ সেবা।
কয়েকজন জেলার ব্যবসা সমৃদ্ধ, কোটিপতি এবং শিল্পপতি , ভিআইপিদের বসবাস এবং জেলার শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়াডে গৃহিণী হয়ে ও একাজের কারণে বুজিয়ে দিয়েছেন মন থাকতে সব কিছু সম্ভব। শুধু তাই নয়, এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এতো নীরবে আপনার এ সেবা সত্যি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আপনার একাজ ও আপনাকে স্যালুট ফাতেমা সাথী, আপনি এ সমাজের মানবতার সাথী হয়ে থাকবেন।
এবিষয়ে ফাতেমা সাথীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি, বাহবা, সমাজ সেবক হিসেবে নিজেকে জাহির বা নেতা নেএী হওয়ার জন্য আমি এ কাজ করছি না। তাই প্রচারের দরকার নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিপদের সময়ে পাশে দাড়ানো মানে এ নয় যে আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য। যাদের দিচ্ছি এবং আরো দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে তারা প্রতিবেশী, পাড়া মহল্লাবাসী। সামনে পবিত্র রমজান, এ রমজানে নিজের আত্মীয় স্বজন একে অপরকে ইফতার সামগ্রী দিচ্ছি না? আমার খাদ্যের উপহার পেকেটে ইফতার সামগ্রী রয়েছে। তাই এটি উপহার, “” এান নয় “। তাছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে আমার এ চেষ্টা, যা অব্যাহত থাকবে। এটা অন্য কারো বা সরকারের অনুদান নয়, যে এান বলবো।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!