Breaking News
Home / সমগ্র দেশ / চট্টগ্রাম বিভাগ / কোভিট -১৯ যুদ্ধের অগ্রভাগের বীর সেনানী- চাঁদপুরে শুরু থেকে করোনায় আক্রান্তদের জন্য ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করেছেন ডাঃ মিজানুর রহমান

কোভিট -১৯ যুদ্ধের অগ্রভাগের বীর সেনানী- চাঁদপুরে শুরু থেকে করোনায় আক্রান্তদের জন্য ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করেছেন ডাঃ মিজানুর রহমান

করোনা বা কোভিট -১৯ যুদ্ধের প্রথম সারির অগ্রভাগের এক বীর সেনানী, যিনি করোনার শুরু থেকে আক্রান্তদের জন্য যেনো এক আশীর্বাদ। তাঁর নাম ডাঃ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বলতে গেলে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে কমরত মেডিকেল অফিসারদের মধ্যে করোনা রোগীদের একমাত্র স্বজন, আশ্রয়স্থল এবং আত্মার আত্মীয়। করোনা রোগীদের একটি ভরসার জায়গায় আছেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আসা অথবা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের আইসোলেশনে পাঠানো এবং স্যাম্পল নেয়ার সকল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন হাসাপাতালের আরএমও, করোনা বিষয়ক জেলার একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসক ও ফোকাল পাসন ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল। তাকে চরম দুঃসময়ে রোগীদের জন্য তাকে যিনি সাবক্ষনিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন এ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মিজানুর রহমান। চাঁদপুর জেলার সর্ববৃহৎ হাসপাতাল আড়াই শ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার।

ডাঃ মিজানুর রহমান বরিশাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন ।তিনি ২০০৭ সালে এমবিবিএস সনদ লাভ করেন।
ডাঃ মিজানুর রহমানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। চাকরির সুবাদে বিগত কয়েক বছর যাবত এ জেলায় কমরত। চিকিৎসা নিতে আসা এ জেলার নাগরিকদের একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিটি মানুষের সাথে আচার আচরণ এবং চিকিৎসা সেবায় এতোটা আপন করে জেলাবাসী তাকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন যে তিনি এ চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।

এ কর্মস্থলে গত চার বছর যাবত আছেন। অথ্যাৎ ডাঃ মিজান ২০১৬ সাল থেকে এ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কমরত রয়েছেন । তিনি এতোটা মানবিক এবং মানুষের সেবায় এতোটাই আন্তরিক যে যেমনি রোগীদের মন জয় করেছেন, তেমনি সিনিয়রের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
যারফলে হাসপাতালের আরএমও ও করোনা বিষয়ক ফোকাল পাসন ডাঃ রুবেল ও ডাঃ মিজানুর রহমানের বয়সের এবং চাকুরির বয়সের মধ্যে ব্যবধান থাকলেও দুজনের মাঝে অপূর্ব মিল।ফলে এ কাজের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা উভয়ের
মিল বা সখ্যতা এবং একে অপরের সহযোগী কর্মক্ষেত্রে।এতে করে যেমনি কাজে একজন সহকমী কে অপর সহকমীর সহযোগিতায় উপকার হচ্ছে। তেমনি চিকিৎসা প্রাথীদেরও এটি উপকারে আসার ফলে দ্রুত তাঁরা সেবা নিতে পারছে।
জেলার শীর্ষ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান আড়াই শ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যতক্ষণ তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি ভাবে সময় নিধারন করা রয়েছে। তিনি ঐ সময় কে অতিক্রম করে ঘন্টার পর ঘন্টা শুধু এ করোনায় বিষয়ে কাজ নিয়েই থাকতে দেখা যায়। কাজ নিয়ে থাকাটাই যেনো তাঁর ধ্যান ও জ্ঞান। কাজের মাঝেই যেনো তাঁর আনন্দ খুঁজে পান। অসুস্থ, পীড়িত মানুষকে সেবা দেয়াই যেনো তাঁর ব্রত। হাসপাতালে যতক্ষণ থাকেন শুধু ততক্ষণেই নন, নিজেদের বাসায় গিয়েও রোগীদের নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সকালে হাসপাতালে এসে একটানা ৪টা-৫টা পর্যন্ত আবার সন্দ্ব্যায় এসে মধ্য রাত পযন্ত এক রুমে বসে কাজ করতে থাকেন।

হাসপাতালের নিচ তলায় আরএমও ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেলের চেম্বারটিকে বেচে নিয়ে ঐ রুমেই চলছে কাজ । এখানেই বর্তমান করোনাকালে ডাঃ রুবেল ও ডাঃ মিজান দুজনে এক সাথে বসেন এবং একাগ্রচিত্তে কাজ করতে থাকেন।
বর্তমানে হাসপাতালে যেদিনই যাওয়া হয়, সেদিনই এ চিকিৎসককে খুবই কর্মব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়। কাজের প্রতি তাঁর একেবারে নেশার মতো লেগে থাকার এ চিত্রটি এমন একটা সময়ে দৃশ্যমান, যখন সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বলতে গেলে অনেকটা মহামারীর মতো। যে ক্রান্তিকালে কিছু কিছু ডাক্তার নিজেদের সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছেন, এমন দুঃসময়টাতে এ চিকিৎসককে দেখা যায় যে তাঁদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তাঁরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে।

এদিকে সদর হাসপাতালে সরজমিনে উপস্থিত থেকে দেখা যায় যে, মাঝেমধ্যে করোনা ছাড়া অন্য রোগীরাও তাঁদের কাছে চলে আসে। তখন খুব ব্যস্ততার সময় খানিকটা বিরক্ত ভাব হওয়ার কথা। কিন্তু না, রোগীদের সেবা দিতে দেখা যায়। এমন দৃশ্য দেখা যাবে বর্তমান সময়ে যে কোনো দিন হাসপাতালে আরএমও’র চেম্বারে গেলে।

শুধু যে দিনের বেলায়ই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন তা নয়, রাতেও একইভাবে করোনা রোগীদের সেবা দিতে দেখা যায়।

। কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চাঁদপুরে শুরু হওয়ার পর জেলার সর্ববৃহৎ এ হাসপাতালটিতে আসা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেয়া, এ সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল কাজ এবং এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ভর্তি করার সকল কাজে সার্বক্ষণিক পাশে থেকে একান্তভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এখানেই শেষ নয়, যারা কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্যে এ হাসপাতালে স্যাম্পল দিতে আসেন, তাদের জন্যে নির্ধারিত ফরম পূরণ করাসহ সকল ব্যবস্থাপনা কাজটি করে থাকেন। চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে হয়। এখানেই শেষ নয়, যেদিন স্যাম্পল পরীক্ষার রিপোর্ট আসে, সেদিন হাসপাতালে যারা স্যাম্পল দিয়েছেন তাদের রিপোর্ট প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতোসব ব্যস্ততার মাঝেও রোগীদের এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোন রিসিভ করে কথা বলতে হয় এবং নানা বিষয়ে তথ্য দিতে হয়। আরো যে কাজটি বিশেষ করে করতে হয় সেটি হচ্ছে- করোনায় আক্রান্ত হয়ে অথবা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে কেউ মারা গেলে তাদের লাশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে স্বজনদের কাছে পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করার ব্যবস্থা করা। এ কাজটির জন্যও তাঁদের অনেক বেগ পেতে হয়। এমনও দেখা গেছে যে, সন্ধ্যায় রোগী হাসপাতালে মারা গেছে, তার লাশ স্বজনদের হাতে তুলে দিতে রাত ২টা-৩টা পর্যন্তও হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। সে সময়কার দৃশ্য দেখে মনে হবে যেনো ডাক্তার লাশ পাহারা দিচ্ছে। এতোসব কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় হাঁপিয়ে উঠেন।

কাজের প্রতি এমন আগ্রহ, একাগ্রতা ও মনোনিবেশ দেখে এ কথাই বলা যায়, জাতির এই ক্রান্তিকালে চাঁদপুরের করোনা রোগীদের জন্য ডাঃ মিজান যেনো আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন।
এদিকে মাঝেমধ্যে কেউ কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে রূঢ় আচরণের অভিযোগ করলেও সেটি ঢালাওভাবে এবং শতভাগ সঠিক নয়। যদিও তাঁরা করেও থাকেন, তবে এটিকে রোগী এবং তাদের স্বজনরা ঠিক এভাবেই দেখছেন যে, রেগে যাওয়া বা কিছুটা রূঢ় আচরণ তো তাঁরাই করবেন। দিনের অধিকাংশ সময় যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের বিভিন্ন রকমের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরাই তো একটা সময় বিরক্ত হবেন, ইচ্ছার বিরুদ্ধেও রূঢ় আচরণ করবেন। আর যে সব চিকিৎসক এই ক্রান্তিকালে মানুষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের তো কোনো সুনাম-দুর্নাম কিছুই নেই। তবে তাঁদের মধ্যে যে মানবিকতা নেই, তা শত বছরের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে। যেখানে সংবাদ কর্মীরা পেশাগত দায়িত্বের কারণেও হাসপাতালে যেতে ভয় পায় (হাতেগোণা ক’জন ছাড়া), সে জায়গায় সেসব চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), নার্স, আয়া ও ক্লিনাররা মৃত্যু ঝুঁকিকে হাতের মুঠোয় নিয়ে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জানানোটাই প্রত্যেক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন সমাজের সচেতন এবং হৃদয়বান মানুষগুলো।
এ হাসপাতলে আরো মেডিকেল অফিসার রয়েছেন, যারা ইচ্ছে করলে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারেন, কিন্তু তারা তা করেননি।
ডাঃ মিজান শুধু হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা বা করোনা বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েই, দেন না, করোনায় আক্রান্ত অনেক পরিবারকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তাসহ সকল ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার রেকর্ডও রয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় চার মাস যাবত আড়াই শ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা নিয়ে কাজ করার বিষয়ে কথা মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে।

ডাঃ মিজান বলেন, এই যে কাজ করছি কোনো ক্লান্তি লাগে না। বরং আনন্দ পাচ্ছি এবং একই সাথে গর্বিত যে মেডিকেলের একজন সিনিয়র ভাইয়ের সাথে কাজ করছি। আমি খুন আনন্দিত। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি আমরা চিকিৎসকরা মুখ ফিরিয়ে নেই, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে?
তিনি আরো বলেন, জন্ম আমার মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারে। দুভাগ্য আমার আমি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বা মুক্তি যোদ্ধা হতে পারিনি। কিন্তু আমি গবিত জাতির এ দূযোগ বা মহামারীতে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি সকলের দোয়া চাই।
সকলের প্রতি আহবান থাকবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। নিজে বাঁচুন, পরিবার কে বাঁচান, দেশ ও জাতি কে রক্ষা করুন।

Check Also

লালমনিরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত [লালমনিরহাট]: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আমন ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জাহেদুল …

Powered by themekiller.com