নারী মুক্তিযোদ্ধা মীরা রানী সরকার বঙ্গবন্ধুর সেই ‘শাবশ বেটি’ পরলোক গমন করেছেন।

আনোয়ার হোসেনঃ

বঙ্গবন্ধুর যশোরের ‘শাবাশ বেটি’। নারী মুক্তিযোদ্ধা মীরা রানী সরকারের পিঠ চাপড়িয়ে বলেছিলেন, ‘শাবাশ বেটি’। সে সময় তাঁকে এক হাজার টাকা পুরস্কারও দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। গতকাল ভোর রাতে নড়াইলে মেয়ের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সেই ‘শাবশ বেটি’ পরলোক গমন করেছেন। তার বাড়ি যশোরের উপশহরে। গতকাল নড়াইল থেকে তার মরদেহ যশোরে আনা হয়। এরপর তাকে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে শেখহাটি কালীতলা শ্মশানে দাহ করা হয় ।
নড়াইল জেলার পাইকড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা মীরা রানী সরকার। পিতা রসিক লাল এবং মা তপি বালা। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন নবম শ্রেণির ছাত্রী। স্বাধীনতার দুই বছর পর পূর্ব পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা পশুপতি সরকারের সঙ্গে বিয়ে হয় মীরা রানীর। বসবাস করতেন যশোরের উপশহরে। শেষ বয়সে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ নেন। বনগাঁর টালিখোলা মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন তিনি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নড়াইলের মতিউর রহমান তাদের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতা জাদুঘরের পেছনে ১২ দিন মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জোগানোর কাজ দেওয়া হয়। তিনি ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর হেলাঞ্চা, বাগদা, গোপালনগর, চাঁনপাড়া মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য নানাভাবে সাহস জুগিয়েছিলেন। পাশাপাশি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছেন। ঝিনাইদহ ও যশোরের বিভিন্ন শিবিরেও তিনি চিকিৎসা সেবা সহযোগিতা করেছিলো।

Please follow and like us:

Please follow & like us :)
পুরানো সংবাদ
%d bloggers like this: