তানোরে আমনের মাঠজুড়ে দুলছে সোনালী ধানের শীশ

 

সারোয়ার হোসেন, তানোর: উত্তরবঙ্গের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত নাম তানোর উপজেলা। বর্তমানে তানোর উপজেলার যেদিকে তাকাই চোখ যায় যতদূর শুধু দুলছে আমন ধানের শীশ। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে আমন ধান।

জানা গেছে, গত’বছরের তুলনায় এবছর আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষককে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসেও ছিলনা তেমন আকাশের বৃষ্টির দেখা। যার জন্য সঠিক সময়ে আমন ধান রোপণ করতে পারেনি প্রায় কৃষক। তবে অসময়ে হলেও বাদ পড়ে নি আমন ধান চাষ করতে কোন কৃষক। আর যাঁরা আমনের শুরুতে ডিপ মটারের পানি কিনে আমন ধান রোপণ করছেন তাদের প্রায় জমিতে আগে ধানের শীশ গজাতে শুরু করলেও এখন পুরো মাঠজুড়ে একসাথে বের হতে শুরু করেছে আমন ধানের শীশ। ফলে কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।

উপজেলার বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে,কমবেশি প্রায় সব কৃষকের কষ্টে অর্জিত আমন ধানের শীশ বেরিয়ে থোকা থোকা হয়ে দুলছে। যদি আকাশের কোন দূর্যোগ বালাই না হয় তাহলে সপ্তাহ দু-একের মধ্যে আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়ে পড়বে বলে আসা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে ,এবার চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২২হাজার ৪৩৫ হেক্টর। কিন্তু অর্জন হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ । তবে যদি আকাশের আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে আমনের ফলনও ভালো হওয়ার আশাবাদী কৃষকরা।

তানোর উপজেলার যশপুর গ্রামের দুঃখু ইসলাম বলেন,তিনি ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০হাজার টাকা। এতে করে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১০হাজার টাকা করে। তিনি বলেন, ধান উঠা পর্যন্ত বিঘা প্রতি আরো খরচ হবে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মতো। এতে করে একেক বিঘা আমন ধান কাটা পর্যন্ত মোট খরচ হবে ১০ থেকে ১২ হাজার করে টাকা। তানোর পৌর এলাকার সেন্দুকাই গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, অন্যবছরের তুলনায় এবছর আমন চাষের জন্য কৃষককে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। একেতো আমন রোপণের সঠিক সময়ে বৃষ্টি ছিলনা তার ভিতরে সার পটাশের ব্যাপক সংকট ছিলো। তার পরেও আল্লাহর রহমতে খুব ভালো হয়েছে আমন ধান চাষ। আসা করা যাচ্ছে সপ্তাহ দু-এক দিন পর থেকে আমন ধান কাটা শুরু হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জানান, বর্তমানে আকাশের আবহাওয়া কৃষকের অনুকূলে রয়েছে, ইতিমধ্যে আমন ধানের শীশ বেরিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে। আমনের এই একটি আবাদ কৃষকরা সল্প খরচে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। যদি কোন দূর্যোগ বালাই না হয় তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হয়ে থাকে। কৃষকের আমন ধান চাষে কোন রোগ বালাই না হয় সেজন্য প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে থেকে তদারকি অব্যাহত রাখা রয়েছে।

 

 

সারোয়ার হোসেন
১৬ অক্টোবর /২০২২ইং

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • সোমবার (রাত ৯:২২)
  • ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
  • ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০