গত কয়েক বছরে হালদায় ৪৩ ডলফিনের মৃত্যু লোকদেখানো ডলফিন দিবস পালন

 

রাউজান প্রতিনিধি:

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে গত কয়েক বছরে মারা গেছে ৪৩টি ডলফিন।হালদা নদীর মা মাছ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, রাউজান হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিস, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অফিস দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু জীববৈচিত্র রক্ষায় কোনো সময় দেখা যায় না বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অফিসের কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে। গতকাল ২৪ অক্টোবর সোমবার ছিল বিশ্ব মিঠাপানির ডলফিন দিবস।দিবসটি দায়সারা ভাবে পালন করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অফিস।হাটহাজারী গড়দুয়ারায় তারা ডলফিন দিবসটি পালন করে।অভিযোগ রয়েছে হালদায় ডলফিন মারা যাওয়ার পর সংবাদ পেয়ে দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট মহল ছুটে আসলেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তাদের একবারও দেখা যায়নি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদুল আলম সভাপতিত্ব করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া। রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ ও বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য্যের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বগত বক্তব্য রাখেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুস সামাদ শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। জানা যায়, গত ২০০৭ সাল থেকে হালদা নদী থেকে এ পর্যন্ত ৪৩টি ডলফিন মারা গেছে। মারা গেছে মা মাছও । ডলফিন ও মা মাছ মারা যাওয়ার কারন হিসাবে জানা যায় হালদা নদীতে মাছ শিকারের জন্য বসানো জালে আটকা পড়ে ও যান্ত্রিক নৌযানের আঘাতে মা মাছ সহ ডলফিন মারা যায় বলে তদন্ত কমিটির দেওয়া রির্পোটে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্ব শেষ গত ১১ জুন শনিবার বিকালে হালদা নদীর রাউজানের আজিমের ঘাট এলাকা থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, হালদা নদীর ডলফিন রক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সহ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসার, উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ দায়িত্ব পালন করে আসছে। মিঠা পানির ডলফিন সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ও দেশের একমাত্র মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস পালিত হয়েছে। ডলফিন দিবস উপলক্ষে হালদা নদীর ডলফিন রক্ষা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীব বিজ্ঞান প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান, হালদা গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, আইইউসিএন বাংলাদেশ-২০১৫ অনুসারে, বাংলাদেশে সাত প্রজাতির ডলফিন পাওয়া যায়। যার মধ্যে হালদায় বসবাসকারী গাঙ্গেয় ডলফিন মিঠা পানির নদীর প্রধান ডলফিন। যা স্থানীয়ভাবে শিশু, শুশ, হুস, হুচ্চুম, শুশুক ও ডলফিন নামে পরিচিত।এটি বর্তমানে দেশের একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী।হালদা নদীতে ডলফিন মৃত্যুর অন্যতম কারণ হচ্ছে অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের জাল বিশেষ করে কারেন্ট জালে আটকা পড়ে ডলফিন এর মৃত্যু হচ্ছে এছাড়াও ডলফিনের বয়সবৃদ্ধি, খাদ্যের অভাব, দুষণ, পানির গুনাবলি পরিবর্তন,ও জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি সম্পৃক্ত। তাই হালদা নদীতে প্রতিনিয়ত গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃত্য হালদা বাস্তুতন্তের জন্য একটি অশনিসংকেত। হালদা বাস্ততন্তকে ডলফিনের বসবাস উপযোগী করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমুহ গ্রহণ করা সময়ের দাবী। ১. নদীতে অবৈধভাবে যেকোন ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। ২. নদীতে অতিরিক্ত ইঞ্জিন চালিত নৌযান চলাচল বন্ধ করতে হবে। ৩.হালদা নদী ও এর শাখা খালসমূহ কে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত রাখতে হবে। ৪. হালদা ও শাখা খালে বিষ দিয়ে মাছ মারা বন্ধ করতে হবে। ৫. হালদার যে স্হানে ও শাখা খালে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে, সেখান থেকে পলি অপসারণ করে হালদায় পর্ষাপ্ত পরিমানে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। ৬. কমিউনিটি বেইজড ডলফিন ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম গ্রহণ করতে হবে যেখানে বনবিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ৭. ডলফিন এর পরিবেশগত গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্থানীয় জেলে ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ৮. কৃষি জমিতে অধিক পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার নিরুৎসাহিত এবং জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। ৯. ডলফিন ডাটাবেজ তৈরি করে নিয়মিত ডলফিনের সংখ্যা ও আবাসস্থল মনিটরিং করতে হবে। ১০. ডলফিন সংরক্ষণে আলাদা বিশেষজ্ঞ মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।১১.বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২-(ডলফিন ও তিমি আইন) -৩৭ তম ধারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • রবিবার (রাত ২:০৮)
  • ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
  • ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০