বিজয়ী থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে অলিভা আক্তার এর বিজয়ী হওয়ার গল্প

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’। নারী ও পুরুষকে এভাবেই দেখেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বর্তমানে নারীরা কোনো কাজেই পিছিয়ে নেই। তারা তাদের নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঘরে বাইরে সব পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। অনলাইন ব্যবসায়ের প্রবর্তনের ফলে নারীরা আরও বেশি পরিমাণে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হচ্ছে। তেমনি একজন অলিভা আক্তার। বর্তমানে Oliva fashion নামক উনার একটা পেইজ আছে।

অলিভা আক্তার সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছেন গ্রীন বাংলা নিউজের প্রতিনিধির।শুনিয়েছেন তার সফলতার গল্প। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন গ্রীন বাংলা নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক।

প্রতিবেদক : আপনার বিজয়ী নারী উদ্যোক্তা হওয়ার এর শুরুর গল্পটা জানতে চাই-

উত্তরঃ–আসসালামু অলাইকুম, আমি অলিভা আক্তার। চাঁদপুর এর মেয়ে কাজ করছি থ্রী-পিছ, বেডশিট, শাড়ি এবং হোমমেড সব ধরনের কেক ও পিঠা নিয়ে।

আমি সবসময়ই নিজে কিছু করতে চেয়েছি, নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছি। তারপর যখন করোনার সমযে সকলে অনলাইনে কাজ করতে শুরু করে,,তখন থেকে আমার মনে সাহস তৈরি হয় নিজে কিছু করার। তারপর অনলাইনে সকলের পোস্টগুলো পড়া শুরু করি নিয়মিত। এক্টিভ থাকার চেষ্টা করেছি সর্বদা । তারপর কিছুদিন পর মনোস্থির করলাম যে, আমি মেয়েদের পোশাক নিয়ে কাজ করবো, তারপর আমি নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে আমার একটা ছোট উদ্যোগ শুরু করি। তারপর একদিন আমি তানিয়া আপুর সম্পর্কে জানতে পারলাম, এবং নারীদের সাবলম্বী করার জন্য উনার এই সুন্দর উদ্যোগের অর্থাৎ বিজয়ী সম্পর্কে জানলাম। তারপর এই বিজয়ী থেকে ট্রেনিং নিয়ে আমি আমার হোমমেড কেকের কাজ শুরু করি।
বর্তমানে আমার উদ্যোগ আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলছে…..


প্রতিবেদকঃ আপনার পন্য সম্পর্কে বলুন-

উত্তর- থ্রী-পিছ, বেডশিট, শাড়ি, সব ধরনের কেক এবং পিঠা।

প্রতিবেদকঃ আপনার ব্যবসায়িক অবস্থান কীভাবে বেড়েছে, ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি-

আমি অল্প পুঁজি নিয়ে নেমে ছিলাম, মাত্র নিজের জমানো কিছু টাকা নিয়ে আমার যাত্রা শুরু। অল্প কিছু থ্রী-পিছ উঠালাম, আল্লাহর রহমতে ভালো সেল হলো মোটামুটি ভালো রেসপন্স পেয়েছি,, যাক আলহামদুলিল্লাহ সব কিছুর জন্যে। ভাবলাম এই বার কিছু শাড়ি আর বেডশিট নিয়ে কাজ করি, মাশাআল্লাহ অনেক ভালো রেসপন্স এই বারও পেলাম।

আমি আগে থেকেই বিজনেস করতাম কিন্তু বিজয়ীতে যাওয়ার পর আমার পরিচিতি আরও বাড়লো আমাকে সবাই চিনতেছে জানতেছে এবং আলহামদুলিল্লাহ ভালো সেল হচ্ছে এবং বিজয়ী থেকে ফ্রী ট্রেনিং নিয়ে আমি বিজনেসের আইটেম বাড়িয়েছি কেকের।

ভবিষ্যতে এভাবেই সকলের সহায়তায় এগিয়ে যেতে চাই……

প্রতিবেদকঃ নারী হিসেবে ব্যবসা করতে এসে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সন্মুখীন হয়েছেন কি?

উত্তরঃ আমাদের সমাজে সবসময়ই সব পুরুষের চোখে নারীরা ছোট হয়ে থাকে। নারীরা কিছু করবে নারীর টাকা ইনকাম করবে এটা সব পুরুষ মেনে নিতে পারেনা।।

উদ্যোগটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ টা সহজ ছিল না অনেক কষ্ট এবং নানাবিধ ঝামেলার সম্মুখীন ও হতে হয়েছে আমাকে । সমাজ মেয়েদে কাজ করা এতো সহজে মেনে নিতে চায় না। কেনো সবাই যেনো বলে,, অনলাইন এটা ভালো না, আমার পরিবারের সদস্যরা তখন বলতো তুই কর কারো কোনো কথা পাত্তা দিস না। ইনশাআল্লাহ আমাদের দোয়া ও সাহায্যের হাত সবসময় তোর উপর আছে,, আর কি লাগে? নেমেছি পথে আর কাজ করে যাচ্ছি…আলহামদুলিল্লাহ

 

তবে আবার নতুন করে এক আলোর দেখা পেলাম তা হলো নারী জাগরনের নতুন উজ্জ্বল মুখ তানিয়া ইশতিয়াক খান আপুর বিজয়ী নামে একটি চমৎকার সংগঠনে। যা আমাকে নতুন করে একটা পরিচিত দিয়েছে। আমি খুব আনন্দিত যে এখন বিজয়ীর একজন সদস্য হতে পেরে। মানুষের জীবনে প্রাপ্তির শেষ নেই, তাই বিজয়ীর মাধ্যমে আরো ভালো কিছু পেতে এবং ছোট এই স্বপ্ন টাকে আরো বড় করতে এই পথ চলা। আজ একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্যে চেষ্টা করছি। সফল নারী উদ্যোক্তা হতে অনেক সময় লাগবে, সফল হতে পারবো কিনা তা সময় বলে দিবে। একজন উদ্যোক্তার পিছনের অনেক ঘটনা থাকে এটাই সত্যি।যেহেতু বিজয়ীর সাথে আছি তাই সকল বাধা অতিক্রম করে আমি সামনে এগিয়ে যাবো যাবোই ইনশাআল্লাহ..

প্রতিবেদকঃ উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি কার সহযোগিতা ও উৎসাহ পেয়েছেন এবং কিভাবে পেয়েছেন?

উত্তরঃ আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পিছনে আমার মায়ের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তা পেয়েছি।তারপর বিজয়ীতে আসার পর তানিয়া ইশতিয়াক খান বিজয়ীর ফাউন্ডার আপুর সাপোর্ট পেয়েছি।আপু এতো সুন্দর করে আমাদের মটিভেট করেন তা বলার মত না। আপুর কথাগুলোতে আমি অনেক বেশি উৎসাহ আর ভরসা পেয়েছি। পরিবারের বাইরে আপুর থেকেই অনেক সাপোর্ট পেয়েছি।আপুর অনেক সাপোর্ট আমাদের চাঁদপুরের নারীদের উপর। চাঁদপুরের নারীদের আপন আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বিজয়ী।

প্রতিবেদক- নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

উত্তর- আমি এইটুকুই বলব যে কেউ কিছু করতে চাইলে প্রথম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিজয়ী কে বেছে নাও। অবশ্যই সফল হবে।আর জীবনে কান কথা না শুনে চলবে সেই জীবনে সফলতা আসবেই ইনশাআল্লাহ।এগিয়ে যাও… সফল হবেই…

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • সোমবার (রাত ৯:৩১)
  • ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
  • ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০