হাজীগঞ্জের পালিশারা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুমতি ছাড়াই নাম মাত্র মূল্যে গাছ বিক্রয়ের অভিযোগ

মো.মজিবুর রহমান রনি :
চাঁদপুর  হাজীগঞ্জের পালিশারা উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ-পাশে থাকা মূল্যবান গাছ অনুমতি ছাড়াই বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ গাছ গুলো বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রয় করে ম্যানেজিং কমিটি। এ গাছ কর্তনে উপজেলা প্রশাসন এবং বন ও পরিবেশ কার্যালয়ের নির্দেশ নেয়নি বলে জানা যায়। এতে সরকারের রাজস্ব বিভাগ আয়কর ও ভ্যাটের অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ এবং বিদ্যালয়ের পাশে থাকা মোট ৩৫টি গাছের কাটা গুঁড়ি দেখতে পাওয়া যায়।
এ গাছ গুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা
হাজীগঞ্জের পালিশারা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ের গাছ নিলামে বিক্রয় করে দিয়েছে। নাম সর্বোচ্চ মূল্যে মাত্র ৮০ হাজার টাকায় গাছের মূল্য পরিশোধ করে গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় এক সমিল মালিক রাসেল। বর্তমান বাজারে এ গাছের মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।
এলাকাবাসী ও পালিশারা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের এই উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে মাঠ সংস্কারের নামে বিদ্যালয়ের ছোট বড় প্রায় ৩৫টি গাছ পুরোনো গাছ কেটে ফেলেছেন। এর মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি মনগড়া সিদ্ধান্তে কাগজে-কলমে মাত্র ২৯টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮২ হাজার টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কর্তন করার আগে উপজেলা প্রশাসনের গাছ কাটা সংক্রান্ত কমিটির নিকট বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে আবেদন করতে হয়। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে একটি কমিটি গঠন করে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ে বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্ধারিত মূল্যে এ গাছ নিলামে বিক্রয়ের নিয়ম রয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিজেদের পছন্দের লোকজনকে দিয়ে ৩লক্ষ টাকা বাজার মূল্যের গাছ মাত্র ৮০ হাজার টাকায় বিক্রয় করে দেয়। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহিভূত।
এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তির রেশ না কাটতেই গাছ ও পুরাতন টিনের ঘর বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।
২০০৩ সালের ১৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যে নিলামে গাছ কাটতে হয়। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা যাবে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে গাছ বিক্রয় করা হয়েছে। সে টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা রাখা হয়েছে। উপজেলা গাছ কর্তন কমিটির অনুমতি নিয়েছেন কি না তা জানতে চাইলে? তিনি বলেন এ ধরণের অনুমতি কখনো নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হেলাল বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কমিটির সিদ্ধান্তে গাছ বিক্রয় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবগত করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী গাছ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তে গাছ নিলামে বিক্রয় করবে। এতে ম্যানেজিং কমিটি এ কাজ করতে পারবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কর্তন এবং নিলামে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আমরা একটি কমিটি গঠন করে দেই। আর সে কমিটির প্রতিনিধিগণ বন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গাছের মূল নির্ধারণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা না হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • শনিবার (রাত ৩:৫৪)
  • ১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১