শেষ হচ্ছে করোনা টিকার ক্যাম্পেইন

 

অনলাইন রিপোর্টার-করোনা প্রতিরোধী টিকার ক্যাম্পেইন শেষবারের মতো করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সাধারণ মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে এর আগে একাধিকবার দেশব্যাপী টিকা ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইনের আওতায় একদিনে সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টিকাও দেওয়া হয়েছে।

তবে, টিকার আর কোনও ক্যাম্পেইন করতে চাচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাই আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর করোনা টিকার শেষ ক্যাম্পেইন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় করোনা প্রতিরোধে শেষবারের মতো ক্যাম্পেইন চালানো হবে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই ডোজ দেওয়ার মতো টিকা হাতে আছে। এরপর এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে।

মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে এসব টিকা নষ্ট করে ফেলতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেশে জনসংখ্যার হিসেবে কেনা। তাই নতুন করে আর টিকা এই মুহূর্তে কিনবে না সরকার। হাতে থাকা অন্যান্য টিকা দিয়ে বুস্টার ডোজ কার্যক্রম চালানো হবে।

এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ নেয়নি প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ, দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি প্রায় ৯৪ লাখ মানুষ। পাশাপাশি বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ কোটি মানুষকে। অর্থাৎ প্রায় ৮ কোটি মানুষের বুস্টার ডোজ নেওয়া বাকি।

এদিকে শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ৩ অক্টোবরের পর করোনার টিকার প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ নাও পাওয়া যেতে পারে। কারণ অনেক টিকার মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ শেষ হয়ে যাবে, টিকা থাকবে না হয়তো। পরে তিনি বলেন, ৩ অক্টোবর থেকে প্রথম ডোজ দিতে পারবো না, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও কষ্ট হয়ে যাবে। ১১ অক্টোবর থেকে জেলা উপজেলা পর্যায়ে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ১২ দিন চলবে শিশুদের টিকা কার্যক্রম

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি ১২ দিনের জন্য করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরপর একদিন শুধু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্কুলের বাইরে থাকা ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদেরকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে সারাদেশে একযোগে কমিউনিটি পর্যায়ে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

শনিবার করোনা টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক এই তথ্য জানান। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। সারাদেশের সোয়া দুই কোটি শিশুদের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। এই টিকার দুই ডোজ আট সপ্তাহের ব্যবধানে নিতে হয়। এদিন শিশুদের স্কুলকেন্দ্রিক ভ্যাকসিনেশন শুরু হবে। পরবর্তীতে তা কমিউনিটি পর্যায়ে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, ইতোমধ্যেই সুরক্ষা ওয়েবপোর্টাল/ অ্যাপের মাধ্যমে উক্ত বয়সসীমার শিশুদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের পর কোভিড-১৯ টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে নিকটস্থ স্কুল ভ্যাকসিনেশন সেন্টার ও পরবর্তীতে কমিউনিটি পর্যায়ে (স্কুলবহির্ভূত শিশু) নিকটস্থ কেন্দ্র হতে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারবে। কোনও কারণে শিশুর সুরক্ষা নিবন্ধন সম্ভব না হলেও লাইন লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

এছাড়া টিকা নিতে আহ্বান জানাতে মসজিদে মাইকিং করা হবে বলেও জানা গেছে। তাছাড়া শিশুদের উপযোগী ফাইজারের আরও সাড়ে চার লাখ টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • বুধবার (সন্ধ্যা ৬:১৭)
  • ৫ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১