January 22, 2022, 9:20 pm

News Headline :
যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস করি- চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী ইবিকে বাস উপহার দিলো অগ্রণী ব্যাংক করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্তের হার ২৮.০২ মতলব উত্তরে নিশ্চিতপুর কল্যাণমূলক সংগঠনের শীতবস্ত্র বিতরণ ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের শীতার্তদের কম্বল বিতরণ ফরাজীকান্দি ইউপি’র চেয়ারম্যান ইঞ্জি. রেজাউল করিমের দায়িত্ব গ্রহন ও শোকরানা মিলাদ হাজীগঞ্জে দেয়াল চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু চিলমারীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠে-ঘাটে চলছে দৌড় ঝাপ। শেরপুরে যুব সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্র ও খাতা-কলম বিতরণ সোনারগাঁয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং কালচার

একজন সফল উদ্যোক্তা ও হাজারো বেকারের অন্নদাতা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন

রাফিউ হাসানঃ প্রতিটা সফলতার গল্পের পিছনে থাকে হাজারো কষ্টের ইতিহাস। দিন শেষে তারাই বিজয়ী হয়, যারা সকল প্রতিকূলতা পার করে সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছায়। এমন একজন ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল ১৯৭৯ সালে। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খামপাড় গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম গ্রহন করেন তিনি। পিতা মরহুম মোহাম্মদ অলি উল্যা ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধীন খনিজ ও কয়লা অধিদপ্তরের সিনিয়র পরিদর্শক। মা আনোয়ারা বেগম একজন গৃহিনী। তাদের ৪ ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন পঞ্চম। ভাই-বোন সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-লেখা শেষ করে আজ স্ব-স্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত।

শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নস্থ বিজয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে তিনি এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজ হতে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন এই মেধাবী মানুষটি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চাঁদপুর সরকারি কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে ২০০০ সালে অনার্স সম্পন্ন করেন।
পাশ করার পরেই নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শাহ সিমেন্টে একাউন্টস অফিসার পদে যোগদান করেন।
দিনে চাকরি আর রাত্রে অধ্যয়ন করার জন্য নৈশকালীন মাস্টার্সে ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে। ২০০১ সালে কৃতিত্বের সাথে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। শাহ সিমেন্টে সাড়ে তিন বছর কাজ করা শেষে তিনি পাটওয়ারী গ্রুপে একাউন্টস ম্যানেজার হিসাবে যোগদান করেন। সেখানেও সাড়ে তিন বছরের মতো চাকুরী করেন তিনি। পরবর্তীতে ১০০% রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আনন্দ গ্রুপে সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক(একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স) হিসাবে যোগদান করেন। অতঃপর তিনি দুই বছর দুই মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১ মার্চ তারিখে ১০০% রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মিশোয়ার গ্রুপের সিএফও (চীফ ফিন্যান্স অফিসার) পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দ গ্রুপে সিএফও(চীফ ফিন্যান্স অফিসার) হিসাবে কাজ করছেন।

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন একজন সফল উদ্যোক্তাও বটে। ইতিমধ্যে জনসাধারণকে স্বল্প মূল্যে স্বাস্থসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে কয়েকজন বন্ধু মিলে ঢাকার মিটফোর্ডে ‘মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেড’ নামের একটি হাসপাতাল স্থাপন করেছেন। তিনি বর্তমানে স্থানীয় উনকিলা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যুৎসায়ী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন সফল সমাজসেবকও। তাঁর প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু শিক্ষিত বেকার ছেলে-মেয়ের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে সকলকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন নিভৃতে।

যারা সামান্য দানে নিজেকে প্রচারে ব্যস্ত, সেদিক থেকে নিজেকে আড়াল করেই কাজ করে যাচ্ছেন নিজ গ্রাম তথা পুরো শাহরাস্তির জন্য। অথচ এই মানুষটি আত্নত্যাগ কিংবা প্রচেষ্টার কথা কেউ জানতো নাহ, জানার চেষ্টাও করেন নি। নিজ এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখে চলেছেন।শাহরাস্তিতে বসবাসরত অনেক গরীব ঘরের সন্তান তার অবদানে শিক্ষিত হচ্ছেন। এটাই বা কম কিসের??

করোনাকালীন সময়ে নিজের একান্ত উদ্যোগে স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে হাজারো মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন মানুষটি প্রচারনাহীন ভাবে। অাত্নপ্রচারণা বিমুখ এই মানুষটি প্রতি রমজানে বিভিন্ন মাদ্রাসার এতিম বাচ্চাদের ইফতারের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। খুবই সূচারুভাবে তিনি তার দায়িত্বগুলোও পালন করে যাচ্ছেন। কোনো প্রতিকূলতা তাকে দমাতে পারে নি। এমনকি হাজারো বেকারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তিনি বাঁচিয়েছেন হাজারো পরিবারের জীবন। তার স্বীয় কর্ম তাকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!