December 8, 2021, 5:01 am

কচুয়ায় অনুমোদন ছাড়াই চলছে গুলবাহার শ্যামলী খান ক্লিনিক অপারেশন করেন ‘ধার করা পার্টটাইম চিকিৎসক’

নিজস্ব প্রতিনিধি॥
কচুয়া হাসপাতাল সড়কের পশু হাসপাতাল সংলগ্নে অবৈধভাবে বাসা বাড়িতে গড়ে উঠেছে গুলবাহার শ্যামলী খান ম্যাটারনিটি ক্লিনিক। এ ক্লিনিকে সেবার নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য। প্রসূতি মায়েদের গর্ভের সন্তান নরমাল ডেলিভারিও সিজার করার সময় একাধিক শিশু ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষ টাকা খরচ করেও উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রথম অবস্থায় এ ক্লিনিকটি শুধুমাত্র নরমাল ডেলিভারি করা হয় বলে প্রচারণা চালায় এখন এই প্রতিষ্ঠানে প্রসূতি মায়েদের সিজারও করানো হয়।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে গুলবাহার শ্যামলী খান ম্যাটারনিটি বেসরকারি ক্লিনিকটি গড়ে ওঠে। ক্লিনিকের মালিক ও পরিচালক শ্যামলী খান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই ক্লিনিকটি পরিচালনা করে আসছে। তিনি ইচ্ছামতো নিয়ম-কানুন তৈরি করে বছরের পর বছর রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এমপি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে এ অবৈধ অনুমোদনবিহীন ক্লিনিকটি চালাচ্ছে।
সরকারি কোনো লাইসেন্স নেই। প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তাদের এ কর্মকা- চালছে। স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই চলছে রোগী দেখা থেকে অপারেশন পর্যন্ত। ক্লিনিকের পরিচালক শ্যামলী খান নিজে অপারেশন করছেন এমন অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগী রোগীর। নাম না প্রকাশের শর্তে একজন বলেন- ক্লিনিকের মালিক শ্যামলী খান নিজে অশিক্ষিত হয়ে সিজার করে গর্ভের একাধিক সন্তান নষ্ট করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। নেই কোনো জরুরি বিভাগ, নেই রোগ নির্ণয়ের মানসম্মত যন্ত্রপাতি, পরীক্ষাগার বা ল্যাব টেকনোলজিস্ট। মাঝেমধ্যে ধার করা পার্টটাইম চিকিৎসক দিয়ে চলছে জটিল অপারেশনসহ নানা চিকিৎসা। কমবেতনের অনভিজ্ঞ নার্স, আয়া ও দারোয়ানই হচ্ছে এ ক্লিনিকের ভরসা। দালালদের মাধ্যমে সন্তান প্রসূতি মায়েদের ফাঁদে ফেলে এ ক্লিনিকে নিয়ে আসে। জেলা কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত মনিটরিং কিংবা জবাবদিহি নেই, নেই কোনো নজরদারি।
আপনার ক্লিনিকের অনুমোদন আছে কিনা পরিচালক শ্যামলী খানের কাছে জানতে চাইলে- তিনি অসুস্থাতার অজুহাত দেখিয়ে তিনি কথা বলতে অপরগতা প্রকাশ করে।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সত্যেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, কচুয়াতে সর্বমোট ৩৫টি ডায়াগনস্টিক ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে তন্মধ্যে ১২টি ডায়াগনস্টিক ও মেডিকেল সেন্টারের অনুমোদন নেই। কচুয়া সদরের গুলবাহার শ্যামলী খান ম্যাটারনিটি বেসরকারি ক্লিনিকের কোন কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের ও কোন অনুমোদন নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!