December 9, 2021, 10:04 am

News Headline :
আবারো অধিকার আদায়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবসে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা। শেরপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে জয়িতাদের সংবর্ধনা হাতিয়ায় আন্তর্জাতিক দূর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২১ পালিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন ফুলবাড়ী উপজেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। ফুলবাড়ীতে ভিটামিন এ’প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিত করন সভা। আবারও নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চান মজিবুল আলম সাদাত সোনারগাঁয়ে বিলুপ্তির পথে বেত ও বেত ফল নকলা মুক্ত দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও অলোচনা সভা

কবিতা ও আমি-এস এম আবুল বাশার

আজ কয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছে, কবিতাই আমার সব। কবিতাকে ঘিরে দীর্ঘ ৬০ বছর বসবাস করছি। গোটা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ঘুরেছি। নানান জায়গায় কবি ও কবিতার আড্ডায় গিয়েছি। তবে বেশকিছুদিন যাবত যেখানেই দাওয়াত পাচ্ছি, ফিরাচ্ছি না কাউকে। কবিতার জন্য শরীরটাকেও শপে দিয়েছি। শরীর যতক্ষন সুস্থ থাকবে ততক্ষন যেখানেই ডাক পড়বে, লোকেশন জানা থাকবে,সেখানেই ছুটবো, কবিতার কথা বলবো। কেননা কবিতাই হলো আমার বেচেঁ থাকা। কবিতার জন্যই ৩১ অক্টোবর সোমবার গিয়েছি কুমিল্লার লাকসাম সাপ্তাহিক লাকসাম পত্রিকা অফিসে। সেখানে কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করেছে জাতীয় কবিতা মঞ্চ কুমিল্লা জেলা শাখা। সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে আমি থাকলেও পুরো কমিটির ৪১ জন সদস্যই কর্মঠ ও বিচক্ষন হওয়ায় তেমন গুরু দায়িত্ব আমার নেই বললেই চলে। তবে সবার সাথে সবার একটা ভালো যোগাযোগ রয়েছে সেটা বলার দাবি রাখে। কেননা সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদুল হাসান নিজামী তো আমার অনুজপ্রতিম কবি বন্ধু। যাক কমিটির অনেকেই লাকসাম থানা রোডের সাপ্তাহিক লাকসাম পত্রিকা অফিসে আসতে লাগলো। সেখানেই আসরের মধ্যমণি ভাষাসৈনিক আবদুল জলিলের সাথে দেখা হয়ে গেলো। যে আমার খুব কাছের বন্ধু। দীর্ঘ ৪০ বছরের সর্ম্পক যার সাথে। সে হলো আসরের প্রধান অতিথি । আর আমি করলাম সভাপতিত্ব। খুবই ভালো লাগলো। তবে কবিতা ও কবির খোঁজে আমি চারদিকে যেমন ঘুরতে পছন্দ করি, জলিল ও তেমন। সত্যি সে একটি প্রতিষ্ঠান। কেননা সে তো একাধারে একজন পত্রিকার সম্পাদক, সাবেক শিক্ষক, সংগঠক, লেখক, ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক, কবি ও মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের লোক। তার মতো ব্যক্তি লাকসাম তথা কুমিল্লার গর্ব। আবদুল জলিল আমাদের অহংকার। বাংলা সাহিত্যের অহংকার। তার সাথে কবি ও কবিতা সর্ম্পকে দীর্ঘ আলাপ হলো। সে বললো তার এখনো অনেক লেখা বাকি। তাকে যে আরো অনেক বেশি লিখতে হবে। আমি ও তাকে আশ্বাস দিলাম। সে লিখুক,তার লেখাতে জাতি ও সমাজ উপকৃত হবে। আমরা একজন সচেতন ও সহজ সরল মনের অধিকারী কবি জলিলকে পাবো। তবে কবি আবদুল জলিল আমার মতোই থানা সদরে একদম গ্রামের মানুষের মতো বসবাস করে বলে খুব ভালো লাগে। কেননা আমি তো মাঝখানে ১০ বছর বাদ দিলে বাকি ৭১ বছরই গ্রামে আছি। সবকিছু ছাড়তে পারলেও গ্রাম ছাড়া আমার পক্ষে কখনো সম্ভব হয়নি। গ্রামকে আমি আকঁড়ে ধরে আছি। যাক সবিশেষ কথা হলো, গত একটি মাসে বি-বাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কোল্লাপাথর, ফেনী জেলার ফেনী সদর থানায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসকরায়, কুমিল্লা টাউন হলে মাসিক কবিতা পাঠের আসর, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান, কবি ফখরুল হুদা হেলালের জন্মদিন, সৈয়দ ওয়ালী উল্যাহর মৃত্যুবার্ষিকী, কবি ফররুখ আহমেদের স্মরণে কবিতা পাঠের আসরে, কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকীসহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছি। সবগুলোতেই কবিতা পাঠ করেছি। অন্য কবিদের কবিতা পাঠও মনোযোগ সহকারে শুনার চেষ্টা করেছি। কবিতা আমাকে স্বপ্ন দেখায়, যে কবিতা আমি লিখতে লিখতে আলমারি পুরিয়ে ফেলেছি। প্রায় কয়েক ডজন টালি খাতায় লিখে ভরিয়ে তুলেছি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কবিতা, গল্প, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনী, ইতিহাস, বিজ্ঞান, রম্য রচনা, আমার জীবনী, বেশ কয়েকজন কবি,লেখকের জীবনী, ৪৭ এ ভারত ভাগের কাহিনী (কিছু অংশ), নাঙ্গলকোটের ইতিহাসসহ প্রায় ২ শতাধিক গ্রন্থ। যার মূলে সবর্দা রেখেছি এই দেশের মান-সম্মান,অভিমান, নারী-পুরুষ, মা মাটিসহ প্রাকৃতিক দৃশ্যসহ ভাঙ্গা গড়ার কাহিনী। সত্যিই সাহিত্যের উপজীব্য করে তোলার চেষ্টা করেছি। আমি যেমন খ্যাতিমান ও বড় কবিদের সানিধ্য পেয়েছি তেমনি বর্তমান সময়ের এই দশকের কবিদের সম্মান ও ¯েœহ করতে কুন্ঠাবোধ করি না। কেননা তারাই তো আগামীদিনের বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল প্রদীপ। বর্তমানে চলছে ফেইসবুকে কবিতা চর্চা। এর বিপক্ষে কোন মন্তব্য না করে শুধু বর্তমান সময়ের তরুন কবি ছড়কারদের বলবো নকল ও অনুসরণ করে কিংবা কপি করে বড় হওয়া যায় না। তাই চুরি করার বদঅভ্যাস বাদ দিতে হবে। এতে জায়গা মতো নয়তো ধরা খেতে হবে। কেননা ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। সাহিত্যের ও একটা মাপকাঠি আছে। সেই মাপকাঠি অনুসারে সাহিত্যের নিয়মকানুন কলা কৌশল মেনে চলতে হবে। এতে করে সাহিত্যের একজন হয়ে উঠতে যে কাউকে সাহায্য করবে। যাক মোট কথা হলো কবিও কবিতার সানিধ্যে থেকে এই জীবনটাকে উপভোগ করেছি। বেশ ভালোই কাটালাম সময়গুলোকে। বহু তরুন কবিদের সম্মানসহ বহু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও কোন ধরণের আফসোস নেই আমার। কেননা আমার কলামের শিরোনামের কথাটি আবার উল্লেখ করে বলবো কবিতাই হলো আমার বেঁেচ থাকা। কবিতাকে আমি ভালোবাসি…
লেখক: কবি

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!