September 17, 2021, 4:16 pm

News Headline :
মতলব উত্তরে দি ইনভিন্সিবল ব্যাচ ৯/১১ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ফিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসে আরও ৩৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৯০৭ কুয়াকাটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে বিডি ক্লিন কুয়াকাটা টিম সোনারগাঁয়ে অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হাজীগঞ্জে স্হাপনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনারকে মাস্ক উপহার দিলেন জেলা সমিতি কফি ও কাজুবাদামের চারা বিতরণ উদ্বোধন করলেন -কৃষিমন্ত্রী রাউজান প্রেসক্লাবে জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর ট্রাস্ট প্রকাশিত গ্রন্থ হস্তান্তর নওগাঁয় দুইশত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দু’জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ

করোনায় ক্রান্তিকালেও বসে নেই শাহরাস্তির সাংবাদিকরা

রাফিউ হাসানঃ মানুষ যখন নিজের ও পরিবারের জীবন নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে একদল পেশাদার লোক নিজের ও পরিবারের মায়াকে তুচ্ছ করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে খবরের খোঁজে। যারা নিজেদের পেশাটাকে নিজের জীবনের থেকেও বড় ভাবেন তারাই আবার হোন সমাজে অবহেলিত।

জেলা সদর হতে ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শাহরাস্তি উপজেলা। ১৫৪.৮৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় জনসংখ্যা প্রায় ২,৫২,৫১১ জন। এদের মধ্য হতেই সাংবাদিকতার মহান পেশায় জড়িত হোন কেউ কেউ। যারা সমাজের নানান অসংগতির কথা তুলে ধরে হোন, কারও কাছে প্রশংসিত আবার কারও কাছে নিন্দিত।

দেশের লকডাউন পরিস্থিতিতে কিছু উদ্যোমী সাংবাদিক তাদের স্বীয় সত্তা ও নৈতিকতা ঠিক রেখে ঘরে বসে না থেকে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। কথায় আছে, ‘গরম ভাতে বিড়াল বেজার, উচিত কথায় বন্ধু বেজার৷’ সাংবাদিকদের কাজই হলো প্রকৃত খবরটা জানানো৷ তো খবরটি যাঁর বিরুদ্ধে, তিনি বেজার হবেন – এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু ‘বেজার’ ব্যক্তি যত ক্ষমতাশালীই হোক, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবাদিকের মর্যাদা এবং অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা তাঁকে নিরাপদ রাখে৷ স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও বাংলাদেশে সেই অবস্থা হয়নি৷ সংবাদমাধ্যম খুব দ্রুত অনেক বেশি বিস্তৃত হয়েছে৷ তা নিয়ে গর্বও করেন অনেকে৷ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেই এর কৃতিত্ব নিতে দেখা যায়৷ বিশেষ করে দেশে যে টেলিভিশন চ্যানেল এক থেকে অনেক হয়েছে এবং এর কৃতিত্ব যে শুধু তাঁদেরই প্রাপ্য তা তাঁরা খুব জোর গলায় বলেন৷ কিন্তু সাংবাদিকের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাঁরা ‘সময়মতো’ একদম নীরব৷ দেশে এখন সেই সময়ই চলছে৷ কারণ সাংবাদিকরা এখন নবম ওয়েজবোর্ডের দাবিতে সোচ্চার৷ এমন সময়ে শুধু সরকার বা সরকারি দলই নয়, বিরোধীদলসহ বলতে গেলে সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার সদাসোচ্চার মানুষও এই একটি ইস্যুতে নীরব থাকে৷

করোনা ভাইরাসের মতো মারাত্নক দূর্যোগেও ঘরে বসে না থেকে কাজ করছে হাজারো সাংবাদিক। কেউ কেউ হয়েছেন আক্রান্ত। তবুও দমে যায়নি তারা। কাজ করে যাচ্ছে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই। বিজ্ঞানীরা যেখানে করোনা ভয়াল থাবায় নিজেরাই পথভ্রষ্ট, সেখানে এই সকল সাংবাদিকরা সব কিছু জেনেই যেনো মৃত্যুকে পকেটে নিয়ে ঘুরছেন।

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ মুহুর্তে ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হলেও সাংবাদিকগুলো সব জেনেও নিশ্চুপ থেকে কাজ করে যাচ্ছেন সমাজের দর্পন হয়ে। এই সাংবাদিকগুলো তথ্যের জন্য ছুটে চলা ও দ্রুত সময়ের ভিতর সকলের নিকট সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াটাই নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করেন।

সাংবাদিকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, মৃত্যু হুমকিকে উপেক্ষা করে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুঃখ-সুখ, প্রাপ্তি ও পাওনাগুলো তুলে ধরেন নিজেদের কলমি শক্তির মাধ্যমে। এতে করে জনপ্রতিনিধিরা নিজেরা থাকেন সোচ্চার। প্রশাসনও পায় প্রয়োজনীয় সহযোগীতা ও তথ্য এসব সাংবাদিকদের থেকে।

গুজবের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে এই সাংবাদিকগুলোই। যারা তাদের জ্ঞানের বিস্তৃতি ঘটিয়ে দ্রুত সময়ের ভিতর সত্য উন্মোচনে ভূমিকা রাখে। যারা পরিবারকে সময়ের দোলাচলে রেখে কর্মকেই প্রাধান্য দিয়ে ছুটে চলে এক গ্রাম হতে অন্য গ্রামে। সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার আলোকে নিজের কর্মদক্ষতায় সত্য ঘটনা নিজে জেনে পরে তা প্রকাশ করে সকলের জন্য। আর তখন পাঠক পায় এক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ।

শাহরাস্তির পাড়া ও মহল্লায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিজেদের প্রকাশনার দ্বারা সঠিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সাংবাদিকগুলোই। এই সাংবাদিকরাই করোনার ভয়াল থাবায় যখন জনজীবন বিপর্যস্ত,তখন নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে সচেতনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন নিজ নিজ এলাকায়। লিফলেট বিতরণ কিংবা মাইকের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করে যাচ্ছেন উপজেলাজুড়ে।

করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে লকডাউন হয়ে সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও সাংবাদিকরা নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হতে পাই নি কোনো ছুটি। ব্যক্তি উদ্যোগ কিংবা সাংগঠনিক উদ্যোগে তারা লিফলেট, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজার বিতরণের মাধ্যমে করেছেন গণসচেতনতা। আবার কেউ কেউ ব্যাক্তি উদ্যোগে অসহায় ও দরিদ্রদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী।

করোনায় শাহরাস্তির মানুষকে ঘরে রাখতে চালু করেছেন ফ্রী হোম ডেলিভারি সার্ভিস। এই মহামারী দুর্যোগে শাহরাস্তি উপজেলাবাসীকে সামান্য সেবা দিতে একঝাঁক সাংবাদিকের প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক টিম।

নিজেদের দায়িত্বের বাহিরেও তারা সমাজকে নিয়ে ভাবছেন। তারা বিভিন্ন গণজমায়েতে উপস্থিত হয়ে লোকদের বুঝাচ্ছেন, তাদের আড্ডা হতে বিরত থেকে ঘরে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করছেন, দোকান বন্ধে প্রশাসনের সহযোগী হয়ে কাজ করছেন, বহিরাগতদের তথ্য পেয়ে নিজেরা জীবনের ঝুঁকির কথা ভুলে গিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে আসছেন আবার প্রশাসনকে জানিয়ে লকডাউনের ব্যবস্থাও করছেন। পরিবারের কথা ভুলে সকালে বের হওয়া একজন সাংবাদিক বাসায় ফিরে একদম রাতে। তবুও নেই তাদের ক্লান্তির ছাপ! পরের দিন আবার নতুন উদ্যোমে ছুটে চলে তারা। পরিবারের সকল সদস্য হাসিমুখেই সহ্য করে তাদের প্রিয়জনের কর্মগুলোকে। সাংবাদিকগুলো নিজেদের লেখনীতে দ্রুততার সময়ে জানিয়ে দিচ্ছেন উপজেলার সর্বশেষ আপডেট। প্রশাসনের সাহায্যে কখনও পিছপা হয় না এসব সাংবাদিকরা। তারা ভুক্তভোগীর মাধ্যমে পাওয়া তথ্যগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে তা প্রকাশ করে নিজস্ব পোর্টালে কিংবা সংবাদপত্রে।

বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় এসকল কলম যোদ্ধা। যারা প্রতিনিয়ত নিজস্ব টাইমলাইনে আপডেট দিচ্ছেন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে। শাহরাস্তির মানুষরাও দ্রুত সময়ে জানতে পারছেন সর্বশেষ আপডেট।

সুশীল সমাজ, সচেতন নাগরিক ফোরাম কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সাধুবাদ জানাচ্ছেন এসকল সাংবাদিকদের কর্মকান্ড নিয়ে। স্থানীয় প্রশাসনের হর্তাকর্তারাও খুশী সাংবাদিকদের উদ্যোগের জন্য। সাংবাদিকরা যে আসলেই সমাজের দর্পন, তা সবাই এক বাক্যে মানেন। কেননা তাদের মাধ্যমে ফুটে উঠে সমাজের সকল বাস্তবিক চিত্র।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!