January 29, 2022, 7:30 am

পাখির অভয়াশ্রম বনাম খাসিয়া পুঞ্জি! বিনিষ্ট হচ্ছে গাছপালা! সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।


মৌলভীবাজার প্রতিনিধীঃ আমাদের চারপাশের পানি, বায়ু, আলো, মাটি, গাছপালা নিয়ে পরিবেশ গঠিত। এদের যেকোনো একটি বিনষ্ট হলেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, অতচ আত্ম সুখে মত্ত হয়ে এক শ্রেণীর মানুষ ইচ্ছে মতো প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করে পৃথিবীর সচলগতি অচল করে ফেলার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে, এর ফলে শুধু প্রকৃতি নয় নষ্ট হচ্ছে মাটি, পানি, আলো, বাতাস সবকিছু। এছাড়া নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে অরণ্য ও বনায়ন। বৃক্ষরাজির সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে কার্বনডাই-অক্সাইড প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী, পাখি আরও উপকারী পতঙ্গরা। এর ফলে দেখা দিচ্ছে কোন কোন অঞ্চলে অতি বৃষ্টি। আর সেই অনাবৃষ্টির কারণে দেখা দিবে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, সৃষ্টি হবে নতুন নতুন রোগ। এই বিষয় গুলোকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম ও গণমাধ্যমে মানুষদের বার বার অবগতি করা হলেও মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার একরের উপরে অবস্থিত ইছাছড়া পুঞ্জি, পানাই পুঞ্জি, ওলোছড়া পুঞ্জি, কুকিজুড়ী পুঞ্জি, বেলোয়া পুঞ্জি, লুতিজুড়ী পুঞ্জি, নোয়াবাড়ী পুঞ্জি, পুরানবাড়ী পুঞ্জি, হেওলাছড়া পুঞ্জি, জম্পার আমলরং, রবিন আর্য্য, জামাল, নিখিল বিশ্বাস, মহান খাসিয়া, হেললি তানাংতু, রুবেল খাসিয়া, জতিশ খাসিয়া, বাবলু খাসিয়া, শিলবেষ্টার খাসিয়া সহ এক শ্রেণীর উশৃংখল খাসিয়ারা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বনবিটের বনজ সম্পদ পান চাষ প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন মূল্যবান গাছের মগডাল বলা আগা কর্তন করে ফেলছে, সরজমিনে ১৩ নং কমর্ধা ইউনিয়নের মুড়ইছড়া বনবিটের প্রায় তিন শত একরের উপর অবস্থিতে ইছাছড়া পুঞ্জির প্রায় কয়েক লক্ষ গাছের মাথার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় নাই। স্থানীয়দের দাবী পুঞ্জির খাসিয়ারা পান চাষের জন্য নিবিচারে গাছের মাথা কর্তন করে ফেলেছে। আগে শীত এলে বিভিন্ন প্রকারের পাখির আবাসস্থল ছিল এই সমস্থ গাছের উপর, আর এখন কোন পাখি দেখা যায় না এক সময় এখানে অনেক হরিণ ছিল আজ তাদের কোন অস্তিত্ব নেই। নাম প্রকাশ না করার স্বর্ত্ত্বে অন্য এক জন্য স্থানীয় বাসিন্দা বলেন- এই ভাবে নিবি চারে গাছ কর্তন করার ফলে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনিষ্ট হচ্ছে, যারাই গাছ কর্তন বলা প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশিষ্ট করার বিপক্ষে অবস্থান করে তাদেরকে প্রাণ নাশ সহজ বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। যাহা বিগত দিনে স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট-মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। স্থানীয়দের মতে বেলকুমা পুঞ্জিতে প্রথম বাঙ্গালী হিসেবে মৃত আব্দুস ছত্তার সরকারের ছেলে রফিক আলি(৫৫) পাকিস্তান আমল থেকে বংশানুক্রমে খাসিয়া পান, সুপারি, লেবু, কাঠাল, আম, লেচু সহ বিভিন্ন ফল-ফলাদি চাষাবাদ করে আসছেন যাহা গত কয়েক দিন পূর্বে ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার সহ স্থানীয় বনবিটের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!