December 9, 2021, 11:02 am

News Headline :
আবারো অধিকার আদায়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবসে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা। শেরপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে জয়িতাদের সংবর্ধনা হাতিয়ায় আন্তর্জাতিক দূর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২১ পালিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন ফুলবাড়ী উপজেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। ফুলবাড়ীতে ভিটামিন এ’প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিত করন সভা। আবারও নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চান মজিবুল আলম সাদাত সোনারগাঁয়ে বিলুপ্তির পথে বেত ও বেত ফল নকলা মুক্ত দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও অলোচনা সভা

ভবনটি দেখলে চিঠি পাঠানোর কথা মনে পড়বে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরে বাংলা নগরে হারিয়ে যেতে বসা ডাকবাক্সের আদলে ১৪-তলা দৃষ্টিনন্দন ডাক বিভাগের সদর দপ্তর ‘ডাকভবন’ উদ্বোধন করেছেন। আর এর মাধ্যমে আধুনিক স্থাপত্য নকশায় ১৫০ ফুট উঁচু গাড়ি পার্কিং সুবিধাসহ ২টি বেসমেন্টসহ ১৪ তলা বিশিষ্ট লেটার বক্সের আকৃতিতে নির্মিত ডাক বিভাগের নতুন সদর দপ্তরের যাত্রা শুরু হলো।

তিনি বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি এর উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই অত্যাধুনিক কার্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজকর্মে আরো গতিশীলতা আনবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেটারবক্স অনেকে ভুলে গেছে। সবাই এসএমএস ও মেইল দেয়। কিন্তু দৃষ্টিনন্দন এই লেটারবক্স সদৃশ ভবন দেখলে চিঠি পাঠানোর কথা মনে পড়বে। ভবনে চিঠিপত্র ঝুলছে, চিঠি যাচ্ছে আসছে, এমন কিছু চিত্র যোগ করারও পরামর্শ দেন তিনি।

ডাকসেবাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ডাকসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে। এখন মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সেবাগুলো পৌঁছে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার ২২৭টির মতো ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জায়গায় ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তুলি। কিন্তু প্রথম শুরু করেছিলাম সেইসঙ্গে ডাকঘরগুলো যেন আধুনিক করা যায় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। ডিজিটাল সেন্টার নির্মাণ করায় উদ্যোক্তা মহিলা ও পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নতুনভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ধরনের সেবা সেখান থেকে নিতে পারছেন। ডিজিটাল সেন্টার থেকে সেবা নিচ্ছে এখন ডাকঘর ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র থেকে সেবা নিতে পারবে।

তিনি বলেন, ডাকের সিস্টেমতো শুধু ডিজিটালাইজড করা না, এর মাধ্যমে যাতে আরও বেশি করে মানুষের সেবা দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ১১৮টি মেইলগাড়ি যুক্ত করেছি, তাছাড়া গাড়ি চালানোর জন্য নারী-পুরুষদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। এখন মেয়েরাও ট্রেন চালায়। তাছাড়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠানো বিশেষ করে যেগুলো পচনশীল পণ্য সেগুলো পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে এয়ারকুলিং সিস্টেম যাতে থাকে, অর্থাৎ কোন তাপমাত্রায় কোন ধরনের ফলমূল তরি-তরকারি বা কোন পণ্য ভালো থাকবে সেই ধরনের গাড়ি কিনে ডাকের মাধ্যমে মানুষ যেন তাদের পণ্য পায় সেই ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। শুধু গাড়ি কিনলে হবে না, চেম্বার দরকার সেজন্য ডাকঘরগুলোতে কুলিং সিস্টেম চেম্বার যাতে তৈরি হয়, তার ব্যবস্থা অর্থাৎ ওয়্যাররহাউজ নির্মাণ হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক ১৪ টি অত্যাধুনিক মেইল প্রসেসিং এবং লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এটা প্রথমে জেলা এবং বিভাগীয় শহরে করে দিচ্ছি। ডাক বিভাগকে বলবো আপনাদের লক্ষ্য থাকবে, একেবারে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত অর্থাৎ ডাকঘর যেখানে যেখানে আছে সেখানে যেন এ ধরনের ব্যবস্থা থাকে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাভাইরাসের পর এখন বেশিরভাগই অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় চলছে। পচনশীল জিনিস অর্থাৎ খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে ফলমূল তরিতরকারি এগুলো যেন ডাকের মাধ্যমে পাঠানো যায়। যেমন- আমি যদি এখন মনে করি এখানে রান্না করে আরেক জায়গায় খাবার পাঠাবো বা আমার আত্মীয়কে পাঠাবো, সেটাও যেন পাঠাতে পারে সেজন্য এই চিলিং সিস্টেমটা খুব দরকার, অর্থাৎ কুলিং সিস্টেম। সেই ধরনের তাপমাত্রা বা কুলিং সিস্টেম করে দেওয়া যাতে সেখানে এই জিনিসটা নষ্ট না হয়। আর যার হাতে যাবে, পৌঁছাবে সেই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া। সেখানে প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত এরকম সেন্টার থাকবে। আর সেখান থেকে যারা নিয়ে যাবে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কুলিং সিস্টেমের ছোট ছোট পোর্টঅ্যাবল বক্স ব্যবহার করে পৌঁছে দিতে পারবে। সেভাবেই কিন্তু ডাকের সেবাটিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সেই ব্যবস্থা এখন আপনাদের নিতে হবে। হ্যাঁ, ধাপে ধাপে আমরা এগোচ্ছি। এখন আধুনিক সুন্দর ভবন হয়ে গেলো। ইতোমধ্যে ৩৮টি মডেল ডাকঘর নির্মাণকাজের হাতে নিয়েছি। আমি চাইবো সারা বাংলাদেশে এটা করে দিতে, তাহলে মানুষ বিশেষ করে ঘরে বসে অনেকে কাজ করে পয়সা উপার্জন করতে পারবে। মানুষের কর্মসংস্থান যেমন হবে মানুষ সেবাটাও পাবে। সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছি, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের রূপরেখার আওতায়। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হচ্ছে। যেহেতু অনলাইন করায় বিক্রয় জনপ্রিয়তা লাভ করছে, কাজেই ডাকঘর পিছিয়ে থাকলে চলবে না। ডাক বিভাগকে এ বিষয়ে আরো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ভবনটি নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ভবনটিতে সুসজ্জিত ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক পোস্টাল মিউজিয়াম, সুপরিসর অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডে-কেয়ার সেন্টার, মেডিকেল সুবিধা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক ওয়াইফাইসহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে।

এ উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবমুক্ত করেন এই বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস পিএমও থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ গণভবন এবং পিএমও’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর তারিখে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তৎকালীন ঢাকা জিপিও ভবনের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে ডাক অধিদপ্তরের যাত্রা শুরু হয়। তীব্র স্থান সংকটের মধ্যে স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত ঢাকা জিপিও ভবন এর তৃতীয় তলায় ডাক অধিদপ্তরের প্রশাসনিক সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে ঢাকার আগারগাঁওয়ের শেরে বাংলা নগরে ডাক বিভাগের নিজস্ব ৭৫ শতক জমির ওপর ডাক ভবন নির্মাণ প্রকল্প একনেক-এ অনুমোদন প্রদান করে

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!