September 22, 2021, 11:11 am

News Headline :
নিয়ামতপুরে ক্ষুদ্র নৃ -গোষ্ঠী ওঁরাও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব, “সুষ্ঠ সাংস্কৃতি চর্চায় ভূমিকা রাখবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ওঁরাও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব —————– খাদ্যমন্ত্রী রাউজানে সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর ওরশ শরীফের প্রস্তুতি সভা ফুলবাড়ীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ উদ্বোধন। রাউজানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন চুয়েটের এক কর্মচারী- সড়কের পাশে রাখা হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি পটিয়ায় ইয়াবা সহ ২জন আটক পলাশে এক নারীর স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে ৭ নারী আটক জাতিসংঘ ৭৬তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধানমন্ত্রী সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ আজ আন্তর্জা‌তিক বিশ্ব শা‌ন্তি দিবস। কচুয়ায় ইউনিফর্ম না থাকায় ৭ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

২০১৬ সাল থেকে ওএমএস কার্ডধারীরা জানেনইনা তাদের নামে কার্ড বরাদ্ধ ছিল, দেবীদ্বারে ওএমএস’র কার্ড উদ্ধার ইউএনও’র উপস্থিতিতে বিতরণ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ
দেবীদ্বারে ওএমএস(ওপেন মার্কেট সেইলস)’র চাউল বিক্রয়ে অনিয়মের তদন্তে গঠিত কমিটির তথ্যমতে উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল মান্নান মোল্লা থেকে ওই ওয়ার্ডের ৫০ সুবিধাভোগীর কার্ড উদ্ধার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান।
রোববার দুপুরে সুবিল গ্রামে উপস্থিত থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান ৭নং ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের কার্ড বিতরণ করেছেন।
২০১৬ সাল থেকে সরকার উপকার ভোগীদের জন্য প্রতি ইউনিয়নে ৫শত ১০জনকে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাউল বরাদ্ধ দিয়ে আসলেও ৪নং সুবিল ইউনিয়নের ওই বরাদ্ধের বিষয়টি কেউ জানতেন না। সম্প্রতি করোনা সংকটে সাধারন মানুষ যখন ১০টাকা কেজি দরে চাউল ক্রয়ের খোঁজে ইউপি মেম্বার চেয়ারম্যানের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন তখনই জানতে পারেন ওই ইউনিয়নে এরকম কোন বরাদ্ধ আসেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভোক্তভূগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সেল ফোনে জানালে তিনি উপজেলা কৃষিকর্মকর্মতা উত্তম কুমার কবিরাজকে প্রধান করে ৩সদস্যের একটি তদন্ত টিম করেন। উপজেলা কৃষিকর্মকর্মতা উত্তম কুমার কবিরাজ’র নেতৃত্বে ৩সদস্যের একটি টিম বৃহস্পতি ও শুক্রবার তদন্তে নামেন।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরজেমিনে স্থানীয়দের মধ্যে কার্ডধারী যতজনের সাথে কথা বলেছেন ওনারা কেউ ১০টাকা কেজি দরে চাউল পাননি এবং এ কর্মসূচী পূর্ব থেকে চলমান তাও কেউ জানেনা। তাদের নিকট কোন কার্ডও নেই। সরকারী তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগী কার্ডধারীরা জানেনই না তাদের নামে কার্ড বরাদ্ধ হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তদন্ত টিম প্রধান উত্তম কুমার কবিরাজ জানান, এলাকায় তদন্তে যেয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হল ওএমএস’র চাউল বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে ওই ইউনিয়নরে কেহই অবগত নন। প্রতি ইউনিয়নে উপকারভোগী ৫শত জন ১০টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাউল পাওয়ার কথা থাকলেও এ ইউনিয়নের কেউ পেয়েছেন তা জানেনইনা। এমনকি এ কর্মসূচীর আওতায় কার্ডধারী ৫শতজনের একটি কার্ডও গ্রাহকের কাছে পৌঁছে নাই। কার্ডধারীরাও জানেন না ওরা ওএমএস তালিকাভূক্ত আছেন। পরে ৭নং ইউপি মেম্বার আব্দুল মান্নানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই কার্ড সম্পর্কে কোন অবগত নন বলে জানান। মেম্বারকে ডিলার’র মুখমুখী করে সত্যটা প্রমানের জন্য ওএমএস ডিলার ওই ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার’র বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস সরকারের বাড়িতে যান। সংবাদ পেয়ে ্আব্দুল কুদ্দুস সরকার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং তার সেল ফোনটিও বন্ধ রাখেন।
এ অনিয়মের কারনে চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস সরকারের ওএমএস’র ডিলারশীপ বাতিল করেছেনস্থানীয় প্রশাসন ।
ওয়াহেদপুর গ্রামের সরু মিয়া সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ৮এপ্রিল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের ট্রাক্টর ভর্তি চাউল পাচারের বিষয়টি সন্দেহ হলে এলাকাবাসীকে জানাই। ট্রাক্টরের চালক ছিলেন রাঘবপুর গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। সন্দেহ করার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই ইউপি চেয়ারম্যান অতিতে নানা অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন।
এব্যপারে সুবিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান মোল্লাহ জানান, গত ২৩ এপ্রিল আমাকে চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার ৫০টি কার্ড এনে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত দেখিয়ে কার্ডগুলি গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করে দেন। আমি অপারগতা জানাই। কারন আপনার (চেয়ারম্যান)কারনে আমাকে থানায় যেতে হয়েছে। আমার জীবনে কোন অনিয়মের অভিযোগ নেই। এ কার্ডগুলো হয় থানায় জমা দেব নাহয় ইউএনওর নিকট জমা দেব। আমি সব সত্য ফাঁস করে দেব। আপনার বিচার আল্লাহ করনে।
এব্যপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার জানান, ওএমএস’র চাউলের বিষয় ডিলার এবং মেম্বাররা জানেন। আমি ওই দায়িত্বে নেই। এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনার তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কবিরাজকে প্রধান করে ৩সদস্যে কমিটি করে দিয়েছি। তারা তদন্ত করে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার’র ডিলারশীফ বাতিল করা হয়েছে। এখন আমাদের সব চেয়ে বড় কাজ হল উপকারভোগীদের কার্ডগুলো উদ্ধার করা, কোথায় এবং কার কাছে সেগুলো রক্ষিত আছে তা উদ্ধার করে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেয়া, যাতে চলমান বিতরণকৃত চাউল থেকে তারা বঞ্চিত না হন। সে লক্ষ্যে ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান ৫০টি কার্ড জমা দিয়েছেন। আমি নিজে ঘটনাস্থলে যেয়ে কার্ডগুলো বিতরণ করে এসেছি। আজ ৩৫জন উপস্থিত ছিলেন তাদের দিয়েছি বাকীদের কার্ডগুলোও পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করব। পরবর্তীতে আরো তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্য বিষয়ে আইগত ব্যবস্থা নেব।
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার,

Please Share This Post in Your Social Media

error: Content is protected !!