সৈয়দপুরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট

যমুনা নিউজ বিডিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেখা দিয়েছে ইরি বোরো ধান কাটা-মাড়াই এর শ্রমিক সংকট। ফলে অনেক জমিতেই ধান শুকে ঝড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

শহরের হাতখিানা বানিয়াপাড়া এলাকার কৃষক নাজমুল জানান, প্রতিবিঘা জমির (৬০ শতাংশ) ধান কাটতে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে। দুপুরের খাবারে দিতে হচ্ছে পাউরুটি, কলা। আবার কাজ শেষে চা বিস্কুট খাওয়াতে হচ্ছে, আর মেশিনে ধান মাড়াইয়ের জন্য দিতে হচ্ছে বিঘাপ্রতি ৮০০ টাকা। এত কিছুর পরেও এলাকায় শ্রমিক মিলছে না।

এমন পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলে কখনও রোদ, কখনও শিলাবৃষ্টির এই আতঙ্কের মধ্যে শঙ্কায় রয়েছে কৃষককুল। এত কিছুর মধ্যেই এ উপজেলায় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো কাটা-মাড়াই এর কাজ।

বর্ততানে শঙ্কা ও চিন্তা মাথায় নিয়ে ফসল রক্ষার্থে বাড়তি মজুরি দিয়ে খেতের ধান কাটছেন কৃষকরা। উপজেলার সর্বত্র কম-বেশি শুরু হয়েছে এই বোরো ধান কাটা-মাড়াই। কেউবা ধান শুকিয়ে চাল করছেন, কেউবা সংসারের প্রয়োজনে শুকানো ধান হাটে তুলছেন। আবার কেউবা কাঁচা ধানই বিক্রি করছে ফরিয়াদের কাছে।

সরেজমিন, উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙ্গালীপুর, খাতামধুপুর ও বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে সর্বত্র পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে। এমনটি জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা চিন্তা করে আমরা কিছুদিন খেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছি। কারণ এরই মধ্যে দু’দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে অনেক জায়গাতেই ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়ে। কষ্টের ফসলের ক্ষতি আর দেখতে চান না এ অঞ্চলের কৃষক। তাই আমরা ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।

শ্রমিকদের দিয়ে বোরো ধান কাটিয়ে বাড়িতে আনছেন কৃষক। এরপর মেশিনে মাড়াই করে শুকানোর পর কেউ গোলায় তুলছেন কেউবা সংসারের প্রয়োজনে হাটবাজারে তুলছেন। আর হাটে প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি করছে।

বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের কৃষক মোতালেব বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও বৃদ্ধি হয়েছে এতে করে উৎপাদন খরচও উঠছে না অনেক কৃষকের।

উপজেলার কামারপুকুরের কৃষক হাসান আলী বলেন, আমি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করেছি। সার, বীজ, নিড়ানি, সেচ প্রভৃতি কাজে বিরাট অংকের টাকা ব্যয় হয়েছে। জমির ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। এছাড়া আগাম টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ধান কাটার জন্য যেসব শ্রমিক বাইরে গিয়েছিলেন তারা ফিরতে শুরু করেছেন।

ধানকাটা শ্রমিক সর্দার রফিক বলেন, আমার দলে মোট ১০ জন শ্রমিক আছেন। আমরা শুধু ধান কেটে কৃষকের উঠানে তুলে দিব এত করে প্রতিবিঘা দূরত্ব ভেদে ৫ থেকে ৬ হাজার করে টাকা করে আমরা নিচ্ছি। এতে প্রতিদিন আমাদের হাজিরা পড়ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • সোমবার (সকাল ৬:৪৭)
  • ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৫ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২৩শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (শীতকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮