জান্নাতুল মরিয়ম জিদনীর “বিজয়ী” ও “সফল নারী উদ্যোক্তা” হওয়ার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

Jannat Handicraft & Acari House এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল মরিয়ম জিদনীর বিজয়ী হওয়ার গল্প নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছেন গ্রীন বাংলা নিউজের প্রতিনিধির।

শুনিয়েছেন তার সফলতার গল্প। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন গ্রীন বাংলা নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদক : আপনার বিজয়ী নারী উদ্যোক্তা হওয়ার এর শুরুর গল্পটা জানতে চাই-

উত্তরঃ আসসালামু আলাইকুম, আমি জান্নাতুল মরিয়ম জিদনী। কিছু কথা দিয়েই আমি আমার গল্পটা শুরু করতে চাচ্ছি –মেয়েরা ব্যবসা বুঝে নাকি? কোডিং না রান্না শিখো ! চাকরি করলে ঘর সামলাবে কে? এতো পরে কি হবে? সে তো পরের বাড়ি গিয়ে থালাবাসনি মাজতে হবে মেয়েরা আবার BOSS হয় ? যুক্তিতর্ক মেয়েদের বিষয় না, প্রতিদিনই এমন কত কথাইশুনতে হয় এই এতো সব কথা শুনেই মেয়েরা পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যবসা করছে। আমি লকডাউনের মধ্যে চিন্তা করলাম বাসায় বসে কি করা যায়,, তারপর আমি অনলাইনে ব্যবসা শুরু করি, আলহামদুলিল্লাহ প্রথম থেকেই আমি আমার পরিবার থেকে অনেক সাপোর্ট পেয়েছি।

প্রতিবেদকঃ আপনার পন্য সম্পর্কে বলুন-
উত্তর: পুতির শো-পিস, আচার ইত্যাদি।

প্রতিবেদকঃ আপনার ব্যবসায়িক অবস্থান কীভাবে বেড়েছে, ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি-

উত্তর: প্রথমেই বলবো আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া, যেকোনো কাজ করতে গেলে লাভ লসের ব্যাপারটা হিসেব করলে চলবে না। আমাকে এটা ভাবতে হবে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারাই আমি একদিন ইন শা আল্লাহ সফল হব। তাই আমি সবার উদ্দেশ্যে একটা কথা বলতে চাই আপনারা কঠোর পরিশ্রম করুন ইন শা ল্লাহ একদিন সফল হবেন।

প্রতিবেদকঃ নারী হিসেবে ব্যবসা করতে এসে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সন্মুখীন হয়েছেন কি?

উত্তরঃ প্রথমেই বলবো আমাকে আমার ফ্যামিলি সাপোর্ট করছে সব সময় তবে হ্যাঁ মেয়ে হিসেবে কাজ করতে গেলে পাছে লোকে আমাকে অনেক কিছু বলবেই। আমাকে অনেক কিছুই বলেছে তবে আমি কখনো কিছু বলিনি কারন আমাকে আমার নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে।

প্রতিবেদকঃ উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি কার সহযোগিতা ও উৎসাহ পেয়েছেন এবং কিভাবে পেয়েছেন?

উত্তরঃ প্রথমে আমি আমার আম্মুর কথা বলব যিনি কিনা আমাকে সব কাজে সাপোর্ট দেয় আর এটাও বলেন যে জীবনের সফলতা ব্যর্থতা আছেই,, এটা নিয়ে কখনো মন খারাপ করা যাবে না,, আমার এটা মনে রাখতে হবে যে আমি কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছবো। আমার মাকে আমার বাবা হাত খরচের জন্য কিছু টাকা দিতেন আর তিনি সেই টাকায় আমায় দিয়ে বলতেন তুমি তোমার বিজনেসটা এগিয়ে নিয়ে যাও।

প্রতিবেদক- নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

উত্তর: ইনশাআল্লাহ আমার একটি উদ্দেশ্য আছে যে আপুরা ফ্যামিলিগতভাবে দুর্বল ঘরে বসে কিছু করতে চান তারা যেন বিজনেস করতে পারেন তাদের জন্য আমি কিছু করতে চাই। সম্প্রতি আমি চাঁদপুরের প্রথম ট্রেনিং বেইজ নারী সংগঠন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান আপুর সাথে পরিচয় হয়ে বিজয়ী থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাতের কাজগুলো শিখছে এবং নিজেই পণ্য উৎপাদন করেছি। আমার জানা মতে চাঁদপুরে না সারাদেশে বিজয়ীর মতো এমন প্লাটফরম নেই, যে নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তাই সবাই আর দেরি না করি, তানিয়া ইশতিয়াক খানের সাথে যোগাযোগ করে বিজয়ী থেকে ফ্রি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হই এবং অন্য কেউ স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করি, নিজের একটা পরিচয় তৈরি করেই এবং অন্যকেও একটা পরিচয় তৈরি করার জন্য সাহায্য করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • শনিবার (সকাল ১১:০৮)
  • ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
  • ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১