যাপিত জীবনের সময়গুলো – ইবনুল সাঈদ রানা

আমরা অনেক বিষয় খেয়াল না করেই সমালোচনা করি।।
আজ আমি যেখানে থাকি মোট ৫০ টি ফ্লাট, তার মধ্য ১৪/১৫ টির মতো হিন্দু এবং খৃষ্টান পরিবার রয়েছেন। বাকি ৩৫/৩৬টি ফ্লাটে মুসলিম পরিবার থাকি। আজ পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে আমাদের প্লাটগুলোর ঈদ আয়োজনে ১৪ টি গরু ৬/৭ টি ছাগল কোরবানী হয়েছে। সবার শতস্পুর্ত অংশগ্রহনে সঠিক ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত চমৎকার ভাবে স্বল্প সময়ে ফ্লাটের বেজেমন্ট গাড়ী পার্কিং এরিয়াতে কোরবানিগুলো করা হয়েছে। না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না যে কি আনন্দ উৎসাহ নিয়ে আমরা কোরবানি উদযাপন করেছি।

আমি আমার দেয়া কোরবানির কাজটি শেষ করেই বাসায় চলে আসছি। ইতিমধ্যে আমাদের পুরো কমপ্লেক্সের ল্যান্ড উনারদের একটি পরিবারের পক্ষ থেকে মাংসের প্যাকেট গিফট চলে আসছে আমার বাসায়। প্যকেটের ওজন পরিমান প্রায় আড়াই থেকে তিন কেজি হবে।

আমার মনে হলো এই গিফট সবার বাসায় পাঠানো হয়েছে। এমন করে প্রায় সব বাসা থেকেই গিফট প্যাকেট আসছে বিকাল পর্যন্ত। এই যে গিফট দেয়া নেয়া এটা কি আন্তরিকতা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নয়? নিশ্চয়ই।

আমাদের দেয়া কোরবানি প্রতিটাই ১-২ লাখ টাকার মধ্যে ক্রয় করা। প্রতিটাতে ১২০- ১৬০ কেজি পরিমান মাংস হয়ে থাকতে পারে, তার মধ্যে কেউ কেউ শেয়ারে ২/৩/৪ ভাগে কোরবানি দিয়েছি। এরই মধ্যে যিনি প্রথম গিফট প্যাকেট পাঠিয়েছেন তার হিসাবটা যদি দেখি তিনি একাই কম করে হলেও যদি ২৫ টি বাসায় পাঠিয়ে থাকেন তবে ৫০ কেজি মাংস অন্য ফ্লাটের পরিবার গুলোতে গিফট করেছেন। নিজের কোরবানির মাংস নিজের ঘরে হয়তো খুবই কম রাখতে পেরেছেন। বেশিটাই বিলিয়ে দিয়েছেন ইসলামী আদেশের চেয়ে মনের আনন্দে প্রতিবেশীর টানে। ঠিক এমনি যারা কোরবানি দিয়েছেন তারা সবাই প্রতিবেশিদের গিফট পাঠিয়েছেন।
শহরের ফ্লাট জীবনকে আমরা নানা ভাবে বলার চেস্টা করি যে এখানে সামাজিকতা অনুপস্থিত। সহমর্মিতা ম্লান, কেউ কারো খবর রাখি না।

তবে আসল সত্য হলো! এমনটা থেকে আমরা বদলে যেতে শুরু করেছি। আরো বদলাতে হবে। একা একা চলার নাম জীবন নয়। সবাইকে নিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক শ্রদ্ধায় রেখে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখায় যেমন আন্তরিকতা বাড়ে, তেমনি একে অপরের সাথে আত্মিক সম্পর্ক তৈরীর বন্ধনটা দৃঢ় হয়।

মনটাও ভালো থাকে। বড় বিষয় হলো আমাদের পরবর্তী জেনারেশন ছেলে মেয়েদের মধ্যে বড় একটা কালচার তৈরী হবে। যেটা আগামী দিনের জন্য বড় সহায়ক। আমরা সবাই চাই আমাদের ছেলে মেয়েরা সামাজিক হউক, আত্মীয়বান্ধব হউক, প্রতিবেশী বান্ধব হউক, বিনয়ী হউক, পরস্পরকে শ্রদ্ধা বোধ সম্পন্ন হউক।
ওরা শিখবে তো আমাদের যাপিত জীবন থেকেই।

আমার প্রতিবেশীরা যার যার গ্রাম থেকে শাক,লতা, আলু কলা বেগুন যাহাই নিয়ে আসুক তার অল্প হলেও বাসায় বাসায় গিফট করে থাকেন। এমনও হয়েছে একটা পেপে ১৫/১৬ টা কাচাঁমরিচ তাও বাসায় শেয়ার করেছেন। উপহার পেতে ভালো কার না লাগে। সবারই ভালো লাগে। নিজে ভোগ করার মধ্য তৃপ্তি আছে তবে কাউকে দিয়ে আনন্দ আরো অনেক বেশি।

এ চর্চাটা তৈরী হওয়া জরুরী। আপনার সাথে আমার মনের মিল যেকোন কারণে নাই বা থাকতে পারে। কিন্তু বাসার বেগম সাহেবা যখন তার গ্রাম থেকে আনা এক ফালি কাচা কলা বাসায় পাঠিয়ে দেন তখন কিন্তু মনটা আস্তে করে শীতল হয়ে যায়।

এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে।

আসুন আমরা নিজেদেরকে এই শহরে জীবনের কঠিনতম সময়ে একটু পারিবারিক সাহ্নিধ্য তৈরীতে মনযোগী হই। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্মান বিনয় সহানুভূতি এবং বন্ধন অটুট হবে। একা বড় হওয়াতে আনন্দ নেই, একা একা কখনো ভালো থাকা যায় না। বয়সের কারণেই বন্ধু থাকাটা জরুরী। মন খুলে কথা বলার চলার মানুষটা হাতের কাছেই থাকতে হবে।

আমার প্রতিবেশি ৪৯ টা ফ্লাটের এবং এমন সুন্দর মানবিক মানুষদের সবার জন্য ঈদ মোবারক। শুভ কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

পুরাতন সংবাদ
October 2026
T W T F S S M
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930