ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় উপচেপড়া ভিড়, বাংলাদেশে আগ্রহ বিদেশিদের

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বইমেলার শেষ সময়ে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শত শত প্রকাশনা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের স্টলের ভিড়ে লাল-সবুজ পতাকায় সজ্জিত বাংলাদেশের স্টলও নজর কেড়েছে বিদেশি দর্শনার্থীদের।

স্টলে রাখা ইংরেজি বইয়ের পাতা উল্টে বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখিয়েছেন অনেকে। কারও আগ্রহ বাংলাদেশের বইয়ে, কারও প্রশ্ন দেশটি ভ্রমণ নিয়ে।
 

রোববার (১১ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলার শেষ সময়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশি প্রবাসী, বইপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরাও ঘুরে দেখেছেন বিভিন্ন দেশের প্রকাশনা।

জার্মানির শীতল আবহাওয়ার মধ্যে বিদেশের মাটিতে বইয়ের এমন আয়োজন অনেক বাংলাদেশির মনে করিয়ে দিয়েছে ঢাকার অমর একুশে বইমেলার কথা। 

দূর প্রবাসে বইয়ের স্টল ঘুরে দেখা, পছন্দের বই হাতে নেওয়া আর পরিচিত ভাষা ও সংস্কৃতির খোঁজ, সব মিলিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের নস্টালজিয়া।

 

এবারের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা ছিল ৭৮তম আসর। ৭ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকাশক, লেখক, বই ব্যবসায়ী ও পাঠকেরা অংশ নেন।

মেলার আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, প্রথম দুই দিনে ১৩০ দেশ থেকে ৬৫ হাজার পেশাগত দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। প্রায় চার হাজার প্রদর্শক তাদের বই ও সেবা তুলে ধরেছেন। মেলার উপলক্ষে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরজুড়ে গত কয়েকদিনে তিন হাজার ৮শ’টির বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের মেলায় সম্মানিত অতিথি দেশ ছিল চেক প্রজাতন্ত্র।

বাংলাদেশ স্টলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সাল থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুরু হয়েছে। আগের দুই বছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বই পাঠানো হয়েছিল। তবে এবার নতুন বই আসেনি। সীমিত আয়োজনের মধ্যেও বাংলাদেশ দূতাবাস মেলায় দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করছে।

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশক, লেখক, বই ব্যবসায়ী ও পাঠকেরা আসেন। তাদের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হয় এ আয়োজনের মাধ্যমে। বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি দেশটি ভ্রমণের বিষয়েও কিছু দর্শনার্থী আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ফলে বইমেলায় অংশগ্রহণ শুধু বই প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দেশের পরিচিতি তুলে ধরারও একটি মাধ্যম।

মেলায় ঘুরতে আসা জার্মানপ্রবাসী শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে থাকতে রাজশাহী থেকে অমর একুশে বইমেলায় যেতাম। এখন ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে একটু দূরে থাকি। তারপরও পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছি। বিভিন্ন স্টল ঘুরে বই দেখছি।

 

তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের বইমেলার স্মৃতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদও বইমেলাকে স্মৃতিময় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ঢাকায় থাকতে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় প্রতিদিনই বইমেলায় যেতাম, বই কিনতাম। জার্মানিতে না এলে বুঝতেই পারতাম না, বাংলাদেশের তুলনায় এখানে বই কেনা কতটা ব্যয়বহুল হতে পারে। বাংলাদেশে তুলনামূলক কম খরচে বই কেনা যায়। বিদেশে একটি বইয়ের দামে নীলক্ষেত থেকে অনেক বই কেনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সীমিত ব্যয়ে জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাংলাদেশের বইয়ের বাজার হলো একটি শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

মেলায় আসা প্রবাসীরা জানান, বাংলাদেশের জন্য এমন আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মেলায় নতুন ও মানসম্মত বই প্রদর্শন, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় বাংলাদেশের সাহিত্য পরিচিত করে বিশ্বপরিসরে দেশকে তুলে ধরা সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বইমেলায় কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শুধু একটি স্টল থাকাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত বই নির্বাচন, সমসাময়িক সাহিত্য ও অনুবাদ এবং লেখক-প্রকাশকদের অংশগ্রহণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

পুরাতন সংবাদ
October 2026
T W T F S S M
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930