হোমিওপ্যাথিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক লাইসেন্স ছাড়া পাওয়া যাবে না ডাক্তারী করার অন্যান্য অনুমোদন পত্র

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক।।

হোমিওপ্যাথিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ​হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা খাতে অনিয়ম ও অ্যালকোহলজাতীয় উপাদানের অপব্যবহার রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে জেলার সকল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, ডাক্তার ও প্র্যাকটিশনারকে আগামী ৭ ই সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় চাঁদপুর জেল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মুঃ মিজানুর রহমান জেলা কার্যালয় টেকনিকেলে উপস্থিত থাকার জন্য সমিতির মাধ্যমে সকলকে সবিণয়ে আহ্বান জানিয়েছেন।

এখন থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ ‘হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার’, ‘চিকিৎসক’ কিংবা ‘প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

একই সাথে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরি, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের আড়ালে উচ্চ মাত্রার অ্যালকোহল যুক্ত স্পিরিট বেআইনিভাবে বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ ওষুধের নামে অ্যালকোহল আসক্তি বাড়ার এই প্রবণতা বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্স গ্রহণ প্রথা চালুর মাধ্যমে কে বা কারা এসব রেক্টিফাইড স্পিরিট বা ইথাইল অ্যালকোহলযুক্ত অ্যালকোহল বেচা-কেনা করছেন, তার ওপর নজরদারি জোরদার করা সম্ভব হবে।

​অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অ্যালকোহল পরিমাপ ও ব্যবহারে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বহু দিন ধরে কতিপয় অসাধু চক্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে কিংবা লাইসেন্স ছাড়াই অ্যালকোহলজাতীয় তরল এনে মাদকের বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করছিল।

নতুন এই নির্দেশনার ফলে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত চিকিৎসকরাই কেবল অনুমোদিত উপায়ে ডাক্তারীসহ ওষুধ তৈরির উপাদান সংগ্রহ ও ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

​এ সিদ্ধান্তের পর দেশব্যাপী ভুয়া প্র্যাকটিশনারদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে অধিদপ্তর।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণ না করে চিকিৎসা কার্যক্রম কিংবা স্পিরিট মজুদ রাখলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (২০১৮ সংশোধিত ২০২৬) ধারা দশ এর উপ ধারা এক এর দফা ‘গ’ অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর লাইসেন্স ছাড়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা, ঔষধ সংরক্ষণ ও বিপণনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

​চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এর ফলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে এবং একই সাথে চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

চাঁদপুর জেলা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কল্যাণ সমিতি গভঃ রেজিঃ নং ৩০৫ কে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয় কতৃক প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

তাই চাঁদপুর জেলা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উপাধ্যক্ষ ডাক্তার মোঃ আতাহার আলী ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার শেখ মহসীন জেলার সকল হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার, প্রাকটিশনার ও ডক্টর এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দসহ সকলকে যথাসময়ে যথাস্থানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

পুরাতন সংবাদ
October 2026
T W T F S S M
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930