নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরে শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় নিলুফার করিমের জন্মদিন উদযাপন করলো নারী উন্নয়ন সংস্থা বিজয়ীর সদস্যবৃন্দ।
আজ ৬ই ডিসেম্বর নারীদের আইডল ফেইথ বাংলাদেশ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা এর এডভাইজার নিলুফার করিমের ৭০তম শুভ জন্মদিন।

জন্মদিন উপলক্ষে চাঁদপুরে বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান এবং বিজয়ীর স্বপ্নদ্রষ্টা আশিক খান মসজিদে বাদ জুমা দোয়ার আয়োজন করেন। তারপর বিজয়ীর সদস্যদের নিয়ে প্রকৃতির সাথে মেঘনা নদীর পাড়ে কেক কেটে জন্মদিন সেলিব্রেশন করেন।
“নিলুফার করিম নারীদের অনুপ্রেরণা”- শীর্ষক আলোচনা সভায় তার অনুপ্রেরণায় আলোকিত বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে সবাই একসাথে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন।
এই গুণী ও কর্মঠ নারী জাগরনের রেনেসাঁ নিলুফার করিমের জন্মদিন উপলক্ষে ফেইসবুকে পাবলিশ কিছু শুভেচ্ছা বানী তুলে ধরা হলো-
কাজী সুফিয়া আক্তারের টাইম লাইন থেকে নেওয়া জন্মদিনের শুভেচ্ছাবানী-
শুভ জন্মদিন নিলুফার করিম
সদা হাসিতে উজ্জ্বল ভীষণ গুণী একজন মানুষ। শ্বশুর বাড়ি, বাবার বাড়ির পরিবারের সকলকে যেমন ভালোবাসেন তেমনই ভালোবাসেন বন্ধুদের। আড্ডা দেওয়ার সুযোগ খুব একটা তাঁর মেলে না, তবু সময় পেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ভালোবাসেন। বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতে ভালোবাসেন। আর সব ঘরোয়া ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে আমরা তাঁর মিষ্টি কণ্ঠের গান শুনে,কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রাণ – মন ভরে নিজস্ব আলয়ে হৃষ্ট চিত্তে ফিরে আসি। নিরহংকারী, মিষ্টি ব্যক্তিত্বের অধিকারী নীলুফার করিম দীর্ঘদিন সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। বেতারে নিয়মিত সংবাদ পাঠক। বর্তমানে উন্নয়ন ও জেন্ডার বিষয়ক পরামর্শক- প্রশিক্ষক- গবেষক হিসেবে সরকারি, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে ফ্রি- ল্যান্স কনসাল্টেন্ট হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নীলুফারের বাবা ড. কামাল উদ্দীন আহমদ ঢাকাস্থ কৃষি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। পরে আলু গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক গ্রন্থের রচয়িতা। মা মমতাজ কামালও পরিশ্রমী,গুণী মহিলা। স্বামীর সাথে তিনিও বই লিখেছেন। একসময়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মনিপুরী পাড়া শাখার সহ- সভানেত্রী ছিলেন।
বিদ্বান ও গুণী মা- বাবার সন্তান নিলুফার এর বিয়ে হয় আরেক গুণী মানুষ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. করিম এর সাথে, এস. এস. সি পাশ করার পরে। স্বামীর সহযোগিতায় নিরবচ্ছিন্ন ভাবে সংসারজীবনের পাশাপাশি নিলুফার পড়াশোনা করেছেন। অর্থনীতিতে অনার্স ও এম. এ ডিগ্রি অর্জন করেন। দুই মেধাবী সন্তানের জননী হন।
নিলুফার বছরে একবার,কখনো দুই বার তাঁর নাতি নাতনিদের সাথে সময় কাটাতে বিদেশ যায়। কিন্তু বন্ধুদের কথা ভুলে না। একবার আমাদের বেশ কয়েকজন বন্ধুকে নববর্ষের শাড়ি পাঠিয়ে ভীষণ বন্ধু বৎসল নিলুফার হাওয়া । করিম ভাইকে নিয়ে মেয়ের কাছে চলে গেছে। পহেলা বৈশাখকে আমি, তপতী ওর দেয়া শাড়ি পরে ঘুরি। আমার ক্যান্সার অপারেশন হওয়ার পরে বেশ কয়েকবার খাবার রান্না করে পাঠিয়েছে। একটু ভালো হতে মন ভালো করতে গান শোনাতে নিয়ে গেছে। নিয়ে গেছে বাইরে স্যুপ খাওয়াতে। আমার ভাই বোন ও তাদের ছেলেমেয়ে এবং পাশের বাড়ির খুরশীদ আপা ও রেখা সাহা ব্যতীত শিখা, শারমিন, নিলুফার,রীনা ক্যান্সারের যন্ত্রণাময় ক্লান্তিময় দুর্বল দিনগুলো সহনীয় করে তুলতে হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও সদা সচেতন ভাবে, স্বেচ্ছায় অনেক দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। বিশ্রামের সময় বাদ দিয়ে আমার বাসায় চলে এসেছে গল্প করতে। একটু বাইরে নিয়ে যেতে। বন্ধুদের এই মানসিক ভাবে আমাকে চাঙা রাখার কথা আমি ভুলি না কখনো। নিলুফার
আরেকবার আমাকে শরৎকালের শাড়ি, সঙ্গে পঞ্চ ব্যন্জন রান্না করে পাঠিয়ে চমকে দিয়েছিল। হাতে কোনো কিছু কম উঠে না।
আজ নিলুফার এর জন্মদিন। শুভ জন্মদিনে অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও ভালবাসা সুবন্ধু আমার। শ্রদ্ধেয় করিম ভাইকে নিয়ে দীর্ঘ বছর কাটুক অনাবিল আনন্দে তোমার নিত্যদিন।
শুভ জন্মদিন নিলুফার করিম।
তানিয়া ইশতিয়াক খানের টাইম লাইন থেকে নেওয়া জন্মদিনের শুভেচ্ছাবানী-
কিছু মানুষ থাকেনা জীবনে ,যার প্রতি সম্মান আর ভালবাসা টা মনের অন্ত:স্থল থেকে আসে। এই মানুষ টা আমার জীবনে আর মনে ঠিক এমন সম্মানের জায়গা নিয়ে বড় একটা স্থান দখল করে আছেন।শুধু আমার নয় ,অনেক মানুষের জীবনে উনি বিভিন্ন রোল প্লে করেছেন যা প্রশংসার দাবিদার।জীবনে যত বার আমি আটকে গিয়েছিলাম, বের হওয়ার কোনো জায়গা পাচ্ছিলাম না। যখন আমার একান্ত আপন মানুষগুলোও হাত ছেড়ে দিয়েছিলো ,পিছপা হয়ে গিয়েছিলো। তখন আমার প্রিয় মানুষ টা আমার হাতটা শক্ত করে ধরেছে প্রতিবার। আমাকে ভাঙতে দেয়নি এই বটগাছের ছায়া টা।বিজয়ী বা খান’স ধাবা যখনি ধাক্কা খেয়েছে তখন সেই ধাক্কা টা আমি বা আশিক একা সামাল দেয়নি,আমাদের পাশে শক্ত হয়ে ঢাল হয়েছে প্রিয় মানুষটা। একজন নারী ,একজন মা,একজন স্ত্রী ,একজন নানি,একজন প্রশিক্ষণ প্রতি রোল প্রিয় মানুষটা যেন সে ১০০/১০০ ভূমিকা পালন করেছেন।একাই ১০০ এই মানুষ টা আমার Nilufer Karim আপা আমার ননস আমার অনুপ্রেরণা। তার কথার মাধুর্য বাচনভঙ্গি সবকিছু আমাকে মুগ্ধ করে।আজকে প্রিয় মানুষ টার জন্মদিন।অনেক অনেক শুভকামনা আপু।আরো অনেক কিছু লেখার ইচ্ছা থাকলে ও প্রকাশ করতে পারছিনা।এবার অবশ্য ই যখনি পারি একসাথে কেক টা কাটবো।
আলেয়া আক্তর টাইম লাইন থেকে নেওয়া জন্মদিনের শুভেচ্ছাবানী-
🎉শুভ জন্মদিন বড়ো আপা Nilufer Karim 🎉
আপনার জন্য অন্তরের গভীর থেকে অনেক অনেক দোয়া ও ভালোবাসা। আপনার মতো একজন গুণী ও কর্মঠ মানুষের সাহচর্যে আসতে পেরে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। আপনার কাছ থেকে সামনে এগিয়ে চলার ও কাজের মধ্যে ডুবে থাকার অনুপ্রেরণা পাই।
বাংলাদেশের নারীদের জন্য আপনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যে বয়সটাতে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়েরা বার্ধক্যকে মেনে নিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, সেই বয়সে আপনি অদম্য ছুটে চলেছেন দেশ-বিদেশে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। কাজ করে চলেছেন বিরামহীনভাবে।
➡️আপনি একজন চমৎকার ট্রেইনার।
➡️আপনি একজন জেন্ডার স্পেশালিস্ট, National Consultant at UN Women Bangladesh,
➡️যতদূর জানি আপনি ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের একজন চমৎকার কণ্ঠশিল্পী ও সংবাদ পাঠিকা।
❣️স্যালুট জানাই আপনাকে❣️
আমার যখন জন্ম আপনি তখন ইউনিভার্সিটির গণ্ডি পার হয়ে ক্যারিয়ার জার্নির পথে। অনেক কিছু শেখার ও জানার আছে আপনার কাছ থেকে।
আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি ❣️



