রাউজান প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম- কাপ্তাই সড়কে অবৈধ যান চলাচলের কারণে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় ঝড়ে যাচ্ছে অনেক তাজা প্রাণ।অনেকেই আহত হয়ে সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে। কাপ্তাই সড়ক যেন হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ। শিশু,কিশোর থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধ, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী কেউ যেনো বাদ পড়ছে না এই দুর্ঘটনার কবল থেকে।কাপ্তাই সড়কে বড় গাড়ির সংখ্যা কম হওয়ায় বেছেড়ে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের সংখ্যা।এসব অটোরিকশার মধ্যে ৭০ শতাংশ গাড়ির ফিটনেস নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ছড়াছড়ি, লাইসেন্স বিহীন অদক্ষ চালক,নিয়ম না মেনে সড়ক পারাপারের ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।গত এক সপ্তাহে এই সড়কে দুর্ঘটনায় চার জন মারা যায়। এই সড়কে যেভাবে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বেড়েছে,অধিকাংশ চালকের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই,বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোসহ যে সড়কে দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করে সচেতন মহল। অপরদিকে দেখা গেছে কাপ্তাই-সড়কের মোড়ে মোড়ে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে লাঠি হাতে চাঁদাবাজির দৃশ্য। এই সড়কে প্রায় ১০-১২ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশা চালকদের প্রতি মাসে দিতে হচ্ছে চাঁদা।এতে দিশেহারা এখন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। প্রতি স্ট্যান্ডে সংঘবদ্ধ চক্র চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে চালক সমিতির ব্যানারে। ভুক্তভোগী চালকরা বলেছেন এই সড়কে সবচেয়ে চাঁদাবাজ চক্রটির অবস্থান করছেন কাপ্তাই রাস্তার মাথায়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক বলেন,এই সড়কে গাড়ি চালাতে লাগে কোন ধরণের কাগজপত্র। তবে বৈধতার জন্য প্রতি মাসে ৭’শ থেকে এক হাজার টাকার টোকেন নিতে হয়, না হলে হয়রানির শিকার পোহাতে হয়। এছাড়াও এই সড়কে কোন স্ট্যান্ড যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর ওই স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী উঠলে প্রতিবারে১০-২০ টাকা করে দিতে হয় চাঁদা। এসব টাকা তুলার জন্য চাঁদাবাজরা প্রতি স্ট্যান্ডে ৪-৫ যুবক রেখেছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথায় ১০ থেকে ১৫ যুবক রয়েছে এই টাকা তুলার জন্য।তাদের প্রত্যেকের হাতে থাকে লাঠি।চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের নোয়াপাড়ায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আনোয়রুল হক বলেন, আমি গত এক সপ্তাহ আগে এখানে এসেছি। এই সড়কে ফিটনেস বিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান করছি।গতকাল অভিযান চালিয়ে ১২টি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে ৭টিকে মামলা দিয়ে ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাসিক টোকেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এবিষয়ে কিছু জানিনা, আমার নজরে এরকম কিছু পড়েনি, আমার নজরে পড়লে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, আমি এখানে আসার পর থেকে রাউজানে মাসিক চুক্তিভিত্তিক কোনো টোকেনের সিস্টেম নেই। যদি কেউ পুলিশ বা ট্রাফিকের নাম ভাঙিয়ে টোকেন দিয়ে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



