এস আর শাহ আলম:
ধর্মীয় সম্প্রীতির মূল্যবোধ বিবেচনায় দুর্গাপূজা সর্বজনীন উৎসব। এরই মধ্যে আড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দশমীতে দেবীকে বিদায়ের আগপর্যন্ত চলবে এই পূজা-অর্চনা। এসব উৎসবে এখন যোগ দিচ্ছেন অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। অনেকে নিমন্ত্রণ পাচ্ছেন বাসাবাড়িতেও। পূজার প্রসাদ বা অতিথি আপ্যায়নে থাকছে মিষ্টি, নাড়ুসহ নানান পদ। তবে পূজা সামনে রেখে নাড়ুর চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। কারণ, মা দুর্গার পূজায় ফলমূল, মোয়া, নাড়ু, নারকেল দিতে হয়। লোকজনকেও অ্যাপয়ন করতে হয়। তাই কেউ অর্ডার করছেন, কেউ আবার বাসাবাড়িতে নিজেরাই তৈরি করছেন। সবখানেই কিন্তু উপকরণ হিসেবে বহুল ব্যবহার হচ্ছে নারকেল ও গুড়ের। দিন যত এগোচ্ছে, চাঁদপুর নারকেল ও বিভিন্ন রকম গুড়ের কদর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বাজারে এর বেশ প্রভাবও দেখা গেছে। দামের তেজ টের পাচ্ছেন ক্রেতারা।
অথচ চাঁদপুর জেলায় ব্যপক হারে নারকেল উৎপাদন হয়, আর এখানকার নারকেল জেলার বাহিরে ও রপ্তানি করেন হাইমচর, ফরিদগঞ্জ সহ কয়েকটি উপজেলা বাসি, প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার নারকেল রপ্তানি হলেও, জেলাবাসির চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হয় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলির সময়, এই জেলার সাথে রয়েছে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলা ওই দুই জেলা থেকেও চাঁদপুরে নারকেল আমদানি হয় বলে অসংখ্য ব্যবসায়ি জানান।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশের মতো চাঁদপুরে আখ ও খেজুর গুড় এবং ঝুনা নারকেলের চাহিদার হার দ্বিগুণ আছে । বিক্রিও হচ্ছে বেশ। তবে দামও গুনতে হচ্ছে বেশি। সরেজমিন পুরান বাজার এর বাকালী পট্টি ও মাছ বাজার গুরে দেখা যায় , মানভেদে প্রতি কেজি আখের গুড় বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়; যা আগের চেয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। অন্যদিকে খেজুরের গুড় বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। এই দামে গুড় কিনলে ক্রেতাকে মানের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে। একেবারে ভেজালমুক্ত খেজুরের গুড় কিনলে কেজিতে গুনতে হবে ৫০০ টাকা। তবে সেই সব গুর একে বারেই চাঁদপুর বাজার গুলিতে নেই । অন্যদিকে আকার ও মানভেদে প্রতিটি নারকেল এর পিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি জোড়া নারকেলের দাম ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা। বা তার থেকেও বেশি। এছারাও চর অঞ্চল থেকে আশা বিক্রেতারা নতুন রাস্তায় নারকেল এর জোরা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা হাকিয়ে নিতে দেখা গেছে। আর শহরের পাল বাজার, নতুন বাজার, বিপনীবাগ, সহ কালি মন্দিরের সামনেত নারিকেলের দামে আগুন জ্বলে।
আরো লক্ষ করা যায়, পূজায় খাদ্য হিসেবে সবজির মধ্য, কচু আর কলার মোচা সহ কলার থোর যেনো লাগামহীন, বৃহস্পতিবার সকালে পুরান বাজার মেয়র সরক বাজারে গেলে দেখা যায় একটি কলার থোর ৩০-৫০ টকা, আর কলার আইলকার পিচ বিক্রি হচ্ছে, ৩০ টাকা পিচ, এছারা, তার সাথে অনান্য সবজির ত বালাই নেই।
চাঁদপুর শহরের কয়েকজন ক্রেতা বলেন, পূজার মধ্যে নারকেলের নাড়ুসহ অন্যান্য নাড়ুর প্রাথমিক উপকরণ নারকেল ও গুড়। এ সময় তাই চাহিদা, দাম উভয়ই বাড়ে।
রাজধানীর পাশাপাশি চাঁদপুর এর বিভিন্ন উপজেলা সহ শহরের হাট বাজার গুলিতেও চাহিদা বেড়েছে গুড় ও নারকেলের। পূজা উপলক্ষে চাঁদপুর পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় দেখা মিলছে থরে থরে সাজিয়ে রাখা নারকেলের পসরা। তা কিনতে ভিড় জমাচ্ছে ক্রেতারা। তবে দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে রয়েছে। পৌর এলাকার বাজার ঘুরে জানা যায়, বাজারে নারকেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।
গত পূজায় এক জোড়া নারকেলের দাম ছিল আকারভেদে ৮০-১০০ টাকা। সেই নারকেল এ বছর বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা জোড়া। সে অনুযায়ী প্রতিটি নারকেলের দাম ১২০-১২৫ টাকা। এদিকে বেড়েছে গুড়ের দামও। যে গুড় গত বছর মিলেছে ৭০-৯০ টাকায়, সেই গুড় এ বছর বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।
এ বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তে নারকেলের দাম বেশি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এসব নারকেল খুলনা, ভোলা, বরিশাল ও নোয়াখালী থেকে আসে। ব্যবসায়ীদের মতে, কিছু এলাকায় বন্যার কারণে মজুত করা নারকেল পচে গেছে, তাই একটু দাম বেশি।
পুরানবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, আশ্বিন ও কার্তিক মাসে সংসারে অভাব থাকে। কিন্তু অভাব যতই হোক, মা দুর্গার পূজায় ফলমূল, মোয়া, নাড়ু, নারকেল তো দিতে হয়। দাম বেশি হলেও কিনতে হবে। শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের গোলাপী রানী বলেন, পূজা চলছে। বাড়িতে বাচ্চারা আছে, অতিথি এলে তাদেরও তো আপ্পায়ন করতে হবে।



