সংগ্রাম, সাহস, বিশ্বাস ও সাফল্যের ১৫ বছর: মোহাম্মদ শাহজালাল জিলানীর গল্প

প্রতিবেদনে মিঞা মামুন:

কিছু মানুষের জীবন শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বরং তা হয়ে ওঠে অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য উদাহরণ। চাঁদপুর জেলার, মতলব দক্ষিন থানার অন্তর্গত, নারায়নপুর (সারপাড়) গ্রামের, মিঞা বাড়ির, মোহাম্মদ শাহজালাল জিলানীর গল্প ঠিক তেমনই একটি গল্প।
২০১১ সালে একজন জুনিয়র অফিসার হিসেবে বিকাশ লিমিটেডে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের দক্ষতা, সততা, নেতৃত্বগুণ এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলায় তিনি আজ বিকাশ লিমিটেডের প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ডিভিশনের, সার্ভিস অপারেশনস বিভাগে্‌ একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। কাজের চাপ, নতুন দায়িত্ব, প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত প্রযুক্তি এবং কঠিন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কখনো দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কখনো নতুনদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় আসে ২০২২ সালে। হঠাৎ করেই তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে, ওখান থেকে ব্রেইন ক্যানসার। এরপর শুরু হয় জীবনের আরেকটি যুদ্ধ। অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাঁকে সময় পার করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি হার মানেননি।
তিনি বিশ্বাস করেছেন মহান আল্লাহর প্রতি, বিশ্বাস করেছেন নিজের সাহস ও মানসিক শক্তির ওপর। পরিবারের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া তাঁকে আবার নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে তিনি আবার কাজে ফিরে এসেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে এবং আরও দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়েছেন।
২০২৬ সালের ৩০-জুলাই, বিকাশের বার্ষিক আয়োজন ‘বিকাশ এমপ্লয়ি নাইট’-এ তাঁকে তার এই দীর্ঘ ১৫ বছরের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামাল কাদীর তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং এটি একজন মানুষের নিষ্ঠা, ধৈর্য, সততা এবং সংগ্রামের স্বীকৃতি।
এই অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন-
‘আজকের এই অর্জনের জন্য আমি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমি কৃতজ্ঞ আমার পরিবার, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আমার সকল সিনিয়র লিডারদের প্রতি, যাঁরা সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বিকাশ আমাকে শুধু একটি কর্মজীবন দেয়নি, বরং আমাকে একজন মানুষ হিসেবে আরও শক্তিশালী এবং পরিণত করে তুলেছে।
আমি চাই, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে। সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়েই আমি সামনের পথে এগিয়ে যেতে চাই।’
একজন শিক্ষক থেকে একজন করপোরেট নেতা হয়ে ওঠার এই গল্প আমাদের শেখায় যে, প্রতিকূলতা কখনোই একজন মানুষের শেষ পরিচয় হতে পারে না। সাহস, সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিই একজন মানুষকে তাঁর প্রকৃত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
মোহাম্মদ শাহজালাল জিলানীর জীবনের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

পুরাতন সংবাদ
October 2026
T W T F S S M
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930