নারী উদ্যোক্তা পূজা সাহার বিজয়ী হওয়ার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’। নারী ও পুরুষকে এভাবেই দেখেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বর্তমানে নারীরা কোনো কাজেই পিছিয়ে নেই। তারা তাদের নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঘরে বাইরে সব পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। অনলাইন ব্যবসায়ের প্রবর্তনের ফলে নারীরা আরও বেশি পরিমাণে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হচ্ছে। তেমনি একজন পূজা সাহা ।” পর্তূলিকা”নামক একটি পেইজ প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসা করছেন নারী উদ্যোক্তা পূজা সাহা।

পূজা সাহা সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছেন গ্রীন বাংলা নিউজের প্রতিনিধির।শুনিয়েছেন তার সফলতার গল্প। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন গ্রীন বাংলা নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক।

প্রতিবেদক : আপনার বিজয়ী নারী উদ্যোক্তা হওয়ার এর শুরুর গল্পটা জানতে চাই-

উত্তরঃ-নমষ্কার,আমি পূজা সাহা, হাজীগন্জ এর মেয়ে কাজ করছি হ্যান্ডমেইড গহনা এবং পান্জাবী নিয়ে। আমি চাঁদপুর সরকারী কলেজে প্রানীবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষে অধ্যায়ন করছি। পড়াশুনার পাশাপাশি আমি টিউশন করতাম,,সেই টিউশনের টাকা দিয়ে নিজের হাত খরচ এবং পড়াশুনার খরচ চালাতাম। কিন্তু সেই টাকার থেকে কখনো সঞ্চয় থাকতো না।
আর আমার ও ছোট বেলা থেকে হাতের কাজ জানা ছিলো,আমার মাসির কাছে আমি এই কাজ গুলো শিখেছিলাম। একটা সময় এগুলো নিয়ে কিছু করার চিন্তা থেকেই ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেছি। আর সেই থেকে পথ চলা শুরু।

প্রতিবেদকঃ আপনার পন্য সম্পর্কে বলুন-

উত্তর- হ্যান্ডমেইড গহনা এবং পান্জ্ঞাবী, শাড়ি হ্যান্ডমেইড ডিজাইন

প্রতিবেদকঃ আপনার ব্যবসায়িক অবস্থান কীভাবে বেড়েছে, ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি-


আমি অল্প পুঁজি নিয়ে নেমে ছিলাম, মাত্র ৫০০০ টাকা নিয়ে আমার যাত্রা শুরু। অল্প কিছু দিনপর মধ্যে ভাল সাড়া পেয়েছি। প্রায় সবাই আমার কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট এবং পনরায় তারা আবার আমার কাছে ডিজাইনের অর্ডার দিয়েছে।

আমি আগে থেকেই বিজনেস করতাম কিন্তু বিজয়ীতে যাওয়ার পর আমার পরিচিতি আরও বাড়লো আমাকে সবাই চিনতেছে জানতেছে এবং আলহামদুলিল্লাহ ভালো সেল হচ্ছে এবং বিজয়ী থেকে ফ্রী ট্রেনিং গুলো নিয়ে আমি বিজনেসের আইটেম আরো বাড়িয়েছি।

প্রতিবেদকঃ নারী হিসেবে ব্যবসা করতে এসে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সন্মুখীন হয়েছেন কি?


উত্তরঃ আমাদের সমাজে সবসময়ই সব পুরুষের চোখে নারীরা ছোট হয়ে থাকে। নারীরা কিছু করবে নারীর টাকা ইনকাম করবে এটা সব পুরুষ মেনে নিতে পারেনা।।

পেইজ টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ টা সহজ ছিল না অনেক কষ্ট এবং নানাবিধ ঝামেলা র সম্মুখীন ও হতে হয়েছে। সমাজ বড় অনড় সব কিছু এতো সহজে মেনে নিতে চায় না। এতো লেখা পড়া করে কেনো অনলাইন এটা ভালো না, মা তখন বলতো তুই কর কারো কোনো কথা পাত্তা দিস না। ইনশাআল্লাহ মায়ের দোয়া আছে আর কি? নেমেছি পথে আর কাজ করে যাচ্ছি।

তবে আবার নতুন করে এক আলোর দেখা পেলাম তা হলো নারী জাগরনের নতুন উজ্জ্বল মুখ তানিয়া ইশতিয়াক খান আপুর বিজয়ী নামে একটি চমৎকার সংগঠনে। যা আমাকে নতুন করে একটা পরিচিত দিয়েছে। আমি খুব আনন্দিত যে এখন বিজয়ীর একজন সদস্য হতে পেরে। মানুষের জীবনে প্রাপ্তির শেষ নেই, তাই বিজয়ীর মাধ্যমে আরো ভালো কিছু পেতে এবং ছোট এই স্বপ্ন টাকে আরো বড় করতে এই পথ চলা। আজ একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করা র জন্যে চেষ্টা করছি। সফল নারী উদ্যোক্তা হতে অনেক সময় লাগবে, সফল হতে পারবো কিনা তা সময় বলে দিবে। একজন উদ্যোক্তার পিছনের অনেক ঘটনা থাকে এটাই সত্যি।যেহেতু বিজয়ীর সাথে আছি তাই সকল বাধা অতিক্রম করে আমি সামনে এগিয়ে যাবোই যাবো।

প্রতিবেদকঃ উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি কার সহযোগিতা ও উৎসাহ পেয়েছেন এবং কিভাবে পেয়েছেন?

উত্তরঃ আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পিছনে আমার মা,দাদা আর বন্ধুদের অনেক সহযোগিতা ছিল এবং আছে।তারপর বিজয়ীতে আসার পর তানিয়া ইশতিয়াক খান বিজয়ীর ফাউন্ডার আপুর সাপোর্ট পেয়েছি।আপু এতো সুন্দর করে আমাদের মটিভেট করেন তা বলার মত না।আপুর অনেক সাপোর্ট আমাদের চাঁদপুরের নারীদের উপর। চাঁদপুরের নারীদের আপন আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বিজয়ী।

প্রতিবেদক- নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

উত্তর- আমি এইটুকুই বলব কেউ কিছু করতে চাইলে প্রথম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিজয়ী কে বেছে নাও। অবশ্যই সফল হবে।আর জীবনে কান কথা না শুনে চলবে সেই জীবনে সাকসেস আসবেই ইনশাআল্লাহ।

এগিয়ে যাও…

সফলত আসবেই…

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আজকের দিন-তারিখ
  • সোমবার (রাত ১১:৩১)
  • ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১